দুদকের মামলায় সাজার হার কমে ৫১ শতাংশে, অর্ধেকই খালাস


চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় সাজার হার উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। বিচারিক আদালতে নিষ্পত্তি হওয়া এসব মামলার পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেক বা ৪৯ শতাংশ মামলার আসামিই খালাস পেয়ে গেছেন। অথচ ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত এই সাজার হার ছিল ৬০ থেকে ৭২ শতাংশের মধ্যে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ২২৮টি দুর্নীতির মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১২২টি মামলায় আসামিরা সাজা পেয়েছেন, যা মোট মামলার ৫১ শতাংশ। আর ১০৩টি মামলায় আসামিরা খালাস পেয়েছেন। এছাড়া ১০টি মামলা নিষ্পত্তি এবং একটি মামলা প্রসিকিউশন প্রত্যাহার করেছে।

বিচারিক আদালতের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দুদকের ২৯৫টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিশেষ জজ আদালতে ৯৯টি এবং ঢাকার বাইরের আদালতগুলোতে ১৯৬টি মামলার রায় হয়েছে। নিষ্পত্তি হওয়া এসব মামলার মধ্যে ১৫৭টিতেই সব আসামি খালাস পেয়েছেন। অন্যদিকে সাজা হওয়া ১৩৮টি মামলার আসামিদের কাছ থেকে ৫ হাজার ৫৩ কোটি টাকা জরিমানা এবং ৩২১ কোটি টাকার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

দুদকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন আদালতে দুর্নীতির ৩ হাজার ৪৫১টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৪৭টি মামলা বিচারাধীন এবং ৪০৪টি মামলা উচ্চ আদালতের আদেশে স্থগিত রয়েছে।

মামলায় খালাস পাওয়ার কারণ হিসেবে ঢাকা জজ কোর্টে দায়িত্বরত দুদকের আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম বলেন, নিষ্পত্তি হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে বহু পুরনো মামলা রয়েছে। সঠিক সাক্ষ্যপ্রমাণ না পাওয়ায় অনেক মামলায় আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করা যায়নি, ফলে তারা খালাস পেয়েছেন।

তবে দুদকের সাবেক মহাপরিচালক (লিগ্যাল অ্যান্ড প্রসিকিউশন) মঈদুল ইসলাম মনে করেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের একটি ছাপ দুদকের মামলাগুলোতে পড়েছে। তিনি বলেন, শুধু এই সরকার পরিবর্তনই নয়, বিগত ওয়ান-ইলেভেন সরকারের পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরও হাইকোর্ট থেকে তাদের মামলাগুলো বাতিল (কোয়াশ) করতে দেখা গিয়েছিল। এবারও বিচারিক আদালতে বহু মামলায় খালাসের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবসে নানা কর্মসূচি

‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারুণ্যের একতা : গড়বে আগামীর শুদ্ধতা’—এই প্রতিপাদ্য নিয়ে ৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশে পালিত হবে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস। এ উপলক্ষে কেন্দ্রীয় ও মাঠ পর্যায়ে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে দুদক।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—সকাল ৬টায় রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দুর্নীতিবিরোধী ব্যানার ও পোস্টার সজ্জা। সকাল সাড়ে ৮টায় দুদক প্রধান কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বেলুন উড়ানো। সকাল ৯টায় প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন এবং সকাল ১০টায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় আলোচনা সভা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ। এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও মানববন্ধন ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।