
রাজধানীর বিজয়নগরে গুলিবিদ্ধ ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে তাকে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার মাথার ভেতরে থাকা বুলেটটি এখনও বের করা সম্ভব হয়নি।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর বেলা ২টা ২৫ মিনিটের দিকে বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় তিনি গুলিবিদ্ধ হন।
ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানান, শরীফ ওসমান বিন হাদির অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন (ক্রিটিক্যাল)। তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। বুলেটটি তার মাথার ভেতরেই রয়ে গেছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় জরুরি বিভাগে আনার পরপরই হাদির কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। পরে দ্রুত সিপিআর (কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন) দিয়ে তার রক্তচাপ কিছুটা স্থিতিশীল করা হয়। তবে তার অবস্থা এখনো অত্যন্ত গুরুতর। তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসার সব ধরনের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
মোটরসাইকেলে এসে হামলা
ডিএমপির জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, তিনটি মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়।
‘জুলাই ঐক্যের’ অন্যতম সংগঠক ইস্রাফিল ফরায়েজী জানান, নির্বাচনী প্রচারণার সময় হাদির ওপর এই হামলা চালানো হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল (ডিআর টাওয়ারের সামনে) ঘিরে রেখেছে।
হামলার আগে ফেইসবুক স্ট্যাটাস ও হুমকি
হাদির সমর্থকরা জানান, গত নভেম্বর মাসে দেশি-বিদেশি অন্তত ৩০টি নম্বর থেকে তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
হামলার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে, বেলা ১১টা ৫২ মিনিটে হাদি ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, “যেহেতু ঢাকা-৮ এ আমার পোস্টার-ফেস্টুন কিছুই নাই, তাই আমার এখন ছেঁড়া-ছিঁড়িরও চাপ নাই। দুদকের সামনে থেইকা জুম্মা মোবারক।”
হাসপাতালে মির্জা আব্বাস ও সেনা মোতায়েন
খবর পেয়ে হাদির সমর্থক ও উৎসুক জনতা হাসপাতালে ভিড় করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে জরুরি বিভাগের সামনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে, বিকেল ৪টার দিকে গুলিবিদ্ধ হাদিকে দেখতে হাসপাতালে যান একই আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি চিকিৎসকদের কাছে হাদির শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।
