‘আবেগ সামাল দিতে পারিনি, জনদুর্ভোগের জন্য ক্ষমাপ্রার্থী’


নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে শোডাউন ও গাড়ি নিয়ে জনসমাগম করায় চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকেলে লোহাগাড়া উপজেলায় এই অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মং এছেন।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় আয়োজিত একটি দোয়া মাহফিলে অংশ নিতে যাচ্ছিলেন। এ সময় একাধিক গাড়ি নিয়ে শোভাযাত্রা ও ব্যাপক জনসমাগম সৃষ্টি করে নির্বাচনী এলাকায় প্রবেশ করায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এবং সত্যতা পাওয়ায় তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করে।

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার ক্ষেত্রে প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত আচরণবিধি অনুযায়ী কোনো ধরনের শোভাযাত্রা, বড় গাড়িবহর কিংবা জনদৃষ্টি আকর্ষণকারী প্রদর্শনী নিষিদ্ধ। তা সত্ত্বেও এসব নিয়ম অমান্য করায় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থী আচরণ বিধিমালা-২০২৫ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

‘আবেগ সামাল দিতে পারিনি, জরিমানা দেব’

জরিমানার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন বলেন, “আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমাকে যে জরিমানা করা হয়েছে, তা আমি এক ঘণ্টার মধ্যেই পরিশোধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

তিনি দাবি করেন, কোনো ধরনের মোটর শোভাযাত্রা, পেস্টুন, ব্যানার বা বাদ্যযন্ত্র ব্যবহারের নির্দেশনা দলের পক্ষ থেকে ছিল না। তিনি বলেন, “আমরা নির্দেশ না দেওয়ার পরও, নিষেধ করার পরও আমাদের নেতাকর্মীরা যেভাবে রাস্তার দুধারে দাঁড়িয়েছিল… জনগণের এই উচ্ছ্বাস, এই আনন্দ, বাঁধভাঙা জোয়ার আমি কীভাবে সামাল দেব? জনগণকে সামাল দিতে না পারায় আবেগি কর্মীরা রাস্তার দুধারে দাঁড়িয়েছিল।”

জনদুর্ভোগের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে নাজমুল মোস্তফা বলেন, “আজকে যে অনাকাঙ্ক্ষিত এবং আমাদের পরিকল্পনার বাইরে জনদুর্ভোগ হয়েছে, আমি সেটার জন্য সর্বপ্রথম এলাকাবাসীর কাছে ক্ষমা চাইছি।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এটি মূলত বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় পূর্বঘোষিত একটি দোয়া মাহফিল ছিল, অন্য কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না।