সামাজিক বৈঠকে ছুরিকাঘাত: রবিউল হত্যার প্রতিবাদে নাজিরহাটে মানববন্ধন


চট্টগ্রামের নাজিরহাটে সামাজিক বৈঠকে কথা–কাটাকাটির জেরে যুবক মো. রবিউল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও শোকর‌্যালি করেছেন নিহতের বন্ধু, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সর্বস্তরের জনতা।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সকালে নাজিরহাট ডিগ্রি কলেজ সড়কে আয়োজিত এই মানববন্ধনে হাজারো মানুষ অংশ নেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সুশীল সমাজ ও নিহতের সহপাঠীদের খণ্ড খণ্ড মিছিলে মানববন্ধনটি জনসমুদ্রে রূপ নেয়।

মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একজন শান্ত ও সভ্য যুববকে নির্মমভাবে হত্যার মধ্য দিয়ে প্রমাণ হলো, দেশে সাধারণ মানুষের প্রাণের কোনো নিরাপত্তা নেই। রবিউল একজন নিরপরাধ ও বাস্তববাদী যুবক ছিলেন। তাকে এভাবে প্রাণ হারাতে হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।” তারা অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে মুখোশ উন্মোচনের দাবি জানান।

এ সময় রবিউলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নাজিরহাট কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯৯৯ ব্যাচের বন্ধুদের অনেককে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়।

নিহতের বাল্যবন্ধু মো. আলী নেওয়াজ সোহেল অভিযোগ করে বলেন, “হত্যাকারীরা উল্টো পাল্টা মামলা দেওয়া ও হামলার হুমকি দিয়ে রবিউলের পরিবারকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। আমি দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই, হত্যাকারীরা যতই শক্তিশালী হোক, তাদের আইনের আওতায় আনা না হলে আমরা ভবিষ্যতে কঠোর আন্দোলনে যাব।”

এ বিষয়ে হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. তারেক আজিজ বলেন, “ঘটনার দিনই জনতার সহায়তায় অভিযুক্ত জসিমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্যদের গ্রেপ্তারেও অভিযান চলছে। আইনি প্রক্রিয়া দ্রুতই এগোচ্ছে।”

উল্লেখ্য, গত ৪ ডিসেম্বর নাজিরহাটে মুছা সওদাগরের বাড়িতে একটি বিয়ে উপলক্ষে বসা সামাজিক বৈঠকে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয় রবিউল ইসলামকে। নিহত রবিউল জহুরুল হকের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে পৈতৃক জমাজমি নিয়ে বিরোধ ছিল বলে স্থানীয়ভাবে জনশ্রুতি রয়েছে।