
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার ধলঘাটা ইউনিয়নের কোহেলিয়া নদী তীরবর্তী এলাকায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলের চোরাই কাঠ দিয়ে অবাধে তৈরি করা হচ্ছে পণ্যবাহী নৌকা ও ফিশিং বোট। সরকারি বনায়নের গাছ কেটে এসব ট্রলার তৈরি হলেও রহস্যজনক কারণে নীরব ভূমিকা পালন করছে স্থানীয় বন বিভাগ ও প্রশাসন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মহেশখালী চ্যানেলের কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের শেষ প্রান্তে অর্থাৎ ধলঘাটা পয়েন্টে নদীর তীরবর্তী স্থানে বিশাল আকৃতির একটি ফিশিং বোট নির্মাণের কাজ চলছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্মাণাধীন এই বোটটির মালিক ধলঘাটার ব্যবসায়ী নুরুল হক কোম্পানি। বোটটি দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন মেহেদী নামের এক যুবক।
সেখানে কর্মরত শ্রমিকরা জানান, বনাঞ্চল থেকে নৌপথে কাঠগুলো এখানে আনা হয়েছে এবং এতে কেউ বাধা দেয়নি। তবে বোট দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেহেদী দাবি করেন, বোট নির্মাণে ব্যবহৃত কাঠ মহেশখালীর কালারমারছড়া ঝাপুয়া এলাকার এক কাঠ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কিনে নেওয়া হয়েছে। যদিও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, নদী তীরবর্তী স্থানে যেসব নৌকা তৈরি হচ্ছে, তার সব কাঠই বনাঞ্চল থেকে আনা।
অভিযোগ উঠেছে, মহেশখালী ও গোরকঘাটা রেঞ্জে কর্মরত কতিপয় অসৎ কর্মচারীকে ম্যানেজ করে অসাধু কাঠ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট দীর্ঘ দিন ধরে ফিশিং ট্রলার তৈরির এই রমরমা ব্যবসা চালাচ্ছে। একটি ফিশিং ট্রলার তৈরি শেষে তা ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়। এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই মহেশখালীর বনাঞ্চল বৃক্ষশূন্য হয়ে বিরানভূমিতে পরিণত হবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় পরিবেশবিদরা।
এ বিষয়ে মহেশখালী রেঞ্জের নবাগত কর্মকর্তা সাজমিনুল ইসলাম বলেন, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের কাঠ দিয়ে অবৈধভাবে নৌকা তৈরি করা হলে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে উপকূলীয় বন বিভাগের গোরকঘাটা রেঞ্জ কর্মকর্তা আইয়ুব আলী বলেন, উল্লিখিত স্থানে নির্মাণাধীন ফিশিং বোট তৈরির জন্য আমাদের কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। অবৈধ বোট তৈরির তথ্য সত্য হলে অভিযান চালিয়ে তা বন্ধ করা হবে।
