আতঙ্কে প্রার্থীরা, নিরাপত্তা ঢেলে সাজাচ্ছে পুলিশ


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর জনমনে যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গিয়েছিল, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদির ওপর হামলার ঘটনায় তা নিমিষেই আতঙ্কে রূপ নিয়েছে। নির্বাচনের ট্রেন চলা শুরু হলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কায় ভুগছেন সম্ভাব্য প্রার্থী, রাজনৈতিক নেতা এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের যোদ্ধারা।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নতুন করে পরিকল্পনা সাজাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম জানিয়েছেন, নির্বাচনের সময় যেকোনো ঝুঁকি মোকাবিলা করতে সব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রার্থীদের সঙ্গে সশস্ত্র প্রহরী থাকবে এবং কোনো প্রার্থী অনিরাপদ বোধ করলে তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন গত শুক্রবার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে প্রকাশ্যে মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা শরিফ ওসমান হাদির মাথায় গুলি করে। বর্তমানে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হাদির অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে মেডিকেল বোর্ড। এই ঘটনার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে থমথমে ভাব বিরাজ করছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সময়মতো কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন হাল হয়েছে। সাবেক আইজিপি মুহাম্মদ নুরুল হুদা বলেন, কোথায় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশি এবং কোথায় শক্ত প্রার্থী রয়েছেন—সেসব জায়গায় আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। সংশ্লিষ্ট সব তথ্য সংগ্রহ ও গোয়েন্দা চ্যানেলকে সক্রিয় করে নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা রোধকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ইতিমধ্যে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট-২’ শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া রবিবার নির্বাচন ভবনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, ভবিষ্যতে নিরাপত্তা পরিকল্পনা আরও কার্যকর করতে আলোচনা হয়েছে এবং নির্বাচন নিয়ে কোনো প্রকার শঙ্কা নেই।

রাজনৈতিক দলগুলো বলছে, গত ৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগের সময় গুলিতে একজন নিহত এবং ২৭ নভেম্বর পাবনা-৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী আবু তালেব মণ্ডলের গণসংযোগে হামলার ঘটনা ঘটেছিল। তবে হাদির ওপর হামলাটি সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং তাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই গুলি করা হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এক বিবৃতিতে বলেছেন, নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে কোনো ধরনের সহিংসতা বরদাশত করা হবে না। দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে। তার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে, সব রাজনৈতিক দলের জন্য পুলিশ নিরাপত্তা প্রটোকল দেবে।

এদিকে পুলিশের লুণ্ঠিত ১ হাজার ৩৩৭টি অস্ত্র, যার মধ্যে প্রায় ৪০০টি পিস্তল রয়েছে, তা এখনো উদ্ধার না হওয়ায় ঝুঁকি বাড়ছে। পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এসব অস্ত্র অপরাধে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না এবং সীমান্ত দিয়ে নতুন অস্ত্র ঢুকছে কি না, তা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক বিভক্তি ভুলে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো আবার এক কাতারে দাঁড়িয়েছে এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার ঘোষণা দিয়েছে।