বোয়ালখালীতে বিএনপি নেতার ভাইয়ের বিরুদ্ধে জমি দখলের মামলা, তদন্তে পিবিআই


চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে নামমাত্র ভাড়ায় দোকান দখল, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং নিজেকে জমির মালিক দাবি করার অভিযোগে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতার ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বিবাদী ৩০ বছর আগের ‘সালামি’ বা অগ্রিম প্রথাকে পুঁজি করে বর্তমান মালিকের স্বত্ব অস্বীকার করছেন। তিনি দম্ভের সঙ্গে জানিয়েছেন, সালামি দেওয়া মানেই জায়গাটি একপ্রকার কিনে নেওয়া, তাই মালিকের অনুমতির কোনো প্রয়োজন নেই।

সোমবার চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইব্রাহীম খলিল এর আদালতে মামলাটি দায়ের করেন ভুক্তভোগী মোহাম্মদ সলিম। তার পক্ষে আমমোক্তার হিসেবে অভিযোগটি দাখিল করেন মামুনুল হক চৌধুরী। বাদীর আইনজীবী আলী আকবর জানান, আদালত অভিযোগ গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার বিবাদী মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দীন বোয়ালখালী উপজেলার পূর্ব গোমদণ্ডী এলাকার দরপপাড়ার মরহুম মতিউর রহমানের ছেলে। তিনি বোয়ালখালী উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা বদরুছ মেহেরের ভাই। বাদী মোহাম্মদ সলিম একই থানার বেঙ্গুরা এলাকার বাসিন্দা।

মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, বোয়ালখালী থানাধীন পূর্ব গোমদণ্ডী মৌজায় অবস্থিত বাদীর মালিকানাধীন একটি দোকান ও ভিটি ভূমি দীর্ঘ দিন ধরে ভাড়াটিয়া হিসেবে ভোগদখল করছেন গিয়াস উদ্দীন। ওই এলাকায় বর্তমানে সমমানের স্থাপনার মাসিক ভাড়া ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা হলেও গিয়াস উদ্দীন দীর্ঘকাল ধরে মাত্র ৭০০ টাকা ভাড়া দিয়ে আসছেন।

অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিবাদী মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দীন বর্তমান বাজারদরের তোয়াক্কা না করে ৩০ বছর আগের নিয়মে নামমাত্র ভাড়ায় দখল বজায় রাখার পক্ষে যুক্তি দেখান। তিনি দাবি করেন, ‘সালামি’ বা অগ্রিম টাকা দেওয়া মানেই জায়গাটি একপ্রকার কিনে নেওয়া।

গিয়াস উদ্দীন দম্ভের সুরে বলেন, “আমি আজ থেকে ৩০ বছর আগে জায়গাটি সালামি দিয়ে নিয়েছি। আমি মাসে ৯০০ টাকা ভাড়া দিই। নতুন করে চুক্তি করব কেন? আমি সালামি দিয়ে নিয়েছি না? সালামির দোকানের সিস্টেম কী রকম জানেন না? সালামি মানে হচ্ছে কেনার সিস্টেম।”

মূল মালিকের অনুমতি ছাড়া উপ-ভাড়াটিয়া নিয়োগের বিষয়টিকেও তিনি নিজের ‘অধিকার’ বলে দাবি করেন। তার ভাষ্য, “আমি সালামি দিয়ে নিয়েছি, তাই আমি উপ-ভাড়াটিয়া নিয়োগ করতে পারব। আমি তো জায়গাটি কাউকে বিক্রি করিনি। শুধুমাত্র ভাড়া দিয়েছি। জমিদার মাস শেষে ভাড়া বুঝে পেলে হয়েছে তো। ওর কাজ তো শুধু ভাড়া নেওয়া।”

আরজিতে উল্লেখ করা ৫ ও ৬ ডিসেম্বর নিজেকে ‘মালিক’ দাবি করে বাদীকে হুমকির অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করলে গিয়াস উদ্দীন মালিকানার দাবি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, “এটার মালিক আমিই তো। এটা যদি আমি বিক্রি করে দিই, তাহলে তখন জমিদারের অনুমতি লাগবে। এখন আরেকজনকে ভাড়া দিলে তো অনুমতির দরকার নেই।”

এসব কথা বলার পরপরই তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। মামলার আরজিতে আনা অন্যান্য অভিযোগ ও হুমকির বিষয়ে জানতে এরপর একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর রিসিভ করেননি।

বাদীপক্ষের অভিযোগ, গিয়াস উদ্দীন মূলত বাদীর পূর্ববর্তী মালিক আবু সৈয়দ চৌধুরীর ভাড়াটিয়া ছিলেন। কিন্তু বর্তমানে তিনি মালিকানা অস্বীকার করে অবৈধভাবে দোকানের উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম পাশের খালি জায়গায় টিন, ইট ও রড জড়ো করে হকার মার্কেটের আদলে সেমিপাকা স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন। বাদীপক্ষ বাধা দিতে গেলে গিয়াস উদ্দীন তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পর নিজের ভাইয়ের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে উচ্ছেদের ভয় দেখান।

আইনজীবী আলী আকবর জানান, মামলাটি ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩’-এর ৪(২)/৭/১৬ ধারায় দায়ের করা হয়েছে। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে পিবিআইকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।