ফেব্রুয়ারির নির্বাচন গণতন্ত্রের শক্ত ভিত্তি গড়বে: রিজওয়ানা হাসান


আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচন গণতন্ত্রের জন্য একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

তিনি বলেছেন, এই ভিত্তি সরকারকে জনগণের কাছে জবাবদিহির আওতায় আনবে এবং বৈষম্যহীন ও শোষণমুক্ত সমাজ গড়ার অপূর্ণ স্বপ্ন অর্জনের যাত্রা এখান থেকেই শুরু করা সম্ভব হবে।

মঙ্গলবার সকালে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আসন্ন নির্বাচনকে এক ধরনের ‘গণভোট’ হিসেবে অভিহিত করে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, এটি শুধু একটি নির্বাচন নয়, সংস্কার প্রশ্নে জনগণ তাদের মতামত জানানোর একটি সুযোগও। এর ওপর ভিত্তি করে গণতন্ত্রের যাত্রা নতুন রূপে শুরু হতে পারে।

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি প্রতিপক্ষকে দমনে সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানান।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, রাজনীতিতে প্রতিপক্ষকে দমন করতে যুক্তি ও তর্কের বদলে হত্যাচেষ্টার মতো সহিংস পন্থা নেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক, নিন্দনীয় ও কাপুরুষোচিত। এতে কোনো বীরত্ব নেই। শক্তি থাকলে জনগণের মুখোমুখি হতে হবে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের সামনে যাওয়ার পথ সবারই জানা।

নতুন বাংলাদেশে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার সংস্কৃতির কোনো স্থান নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন, বিচার এবং সংস্কারের যে লক্ষ্য নিয়ে সরকার যাত্রা শুরু করেছে, তা বাস্তবায়ন করা গেলেই কেবল এই সরকার সফল হবে।

নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সতর্ক করে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, সরকারের লক্ষ্য একটি শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও স্বতঃস্ফূর্ত নির্বাচন নিশ্চিত করা, যাতে মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে। তবে এই প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে একটি শক্তি সক্রিয় রয়েছে এবং জনগণকে ভীত করার চেষ্টা চলছে।

সেই অপশক্তিকে প্রতিহত করার পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের সুরক্ষায় সরকার সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছে এবং সরকার একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দিকেই তাকিয়ে আছে।