
রাষ্ট্র পরিচালনায় ন্যায়নীতি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত না হলে বিজয়ের প্রকৃত অর্থ পূর্ণতা পায় না বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক হুইপ শাহজাহান চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, “স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও সাধারণ মানুষ আজও ন্যায়বিচার ও সমঅধিকার থেকে বঞ্চিত। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করতে হলে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।”
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় আয়োজিত ‘যুব র্যালি’ ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতে ইসলামী এই কর্মসূচির আয়োজন করে। সকাল সাড়ে ৯টায় সাতকানিয়ার কেরানীহাট ‘সী-ওয়ার্ল্ড’ রেস্টুরেন্টের সামনে থেকে র্যালিটি শুরু হয়।
জাতীয় পতাকা হাতে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের কয়েক হাজার নেতাকর্মী র্যালিতে অংশ নেন। মিছিলটি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ধরে কয়েক কিলোমিটার প্রদক্ষিণ করে হাসমতের দোকান এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে শাহজাহান চৌধুরী বলেন, “বিজয় দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—অন্যায়, জুলুম ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম ছাড়া কোনো জাতির মুক্তি সম্ভব নয়। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে কারও প্রতি বৈষম্য থাকবে না এবং মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হবে।”
দেশ গঠনে যুবসমাজের ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ যুবক। এই শক্তিকে সঠিক পথে পরিচালিত করা গেলে বাংলাদেশ অল্প সময়ের মধ্যেই কল্যাণরাষ্ট্রে পরিণত হবে। কিন্তু নৈতিকতা ও আদর্শবিচ্যুতি ঘটলে এই শক্তিই সমাজের জন্য ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে।”
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহকারী সেক্রেটারি মো. ইসহাক, সাতকানিয়া উপজেলা আমির মাওলানা কামাল উদ্দিন, দক্ষিণ জেলা যুব বিভাগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবু নাসের ও সাঙ্গু সাংগঠনিক থানার আমির মাস্টার সিরাজুল ইসলাম।
সভাপতির বক্তব্যে আনোয়ারুল আলম চৌধুরী বলেন, “বিজয়ের চেতনা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই শহীদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানানো সম্ভব। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
