
বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের রাজনীতি জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন। শিক্ষার উচ্চ স্তরে কোনো ধরনের দলীয় রাজনীতি থাকা উচিত নয় বলেও মত দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক আরবি ভাষা দিবস উপলক্ষে আরবি বিভাগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নিজের রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করার কথা জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, “আমার একটি রাজনৈতিক পরিচয় আছে। কিন্তু আমি যখন উপদেষ্টার আসনে বসেছি, তখন আমার দলীয় পরিচয় নেই। আমি সক্রিয়, দায়বদ্ধ জাতি ও সরকারের কাছে। আমি কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব করিনি।”
পেশাগত জীবনে সততাকে প্রাধান্য দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “শিক্ষাজীবনে কে কোন দল করল, আমি সেটা দেখিনি। পেশাগত জীবনে কেউ সৎ ও সক্রিয় কি না, আমি সেটা দেখেছি।”
বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দলীয়করণের সমালোচনা করে আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রে পরিণত হবে কেন? আমরা দুঃখের সঙ্গে দেখেছি, দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো কর্মচারী-কর্মকর্তার নিয়োগ হয়নি। আমরা আশাবাদী, এই ব্যবস্থার পরিবর্তন হবে।”
নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে চবির এই প্রাক্তন শিক্ষার্থী বলেন, “আমার পিএইচডি ডিগ্রির ক্ষেত্রে জটিলতা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতির কারণে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের রাজনীতি আমাদের জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে বড় বাধা।”
অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা আরবি বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য ২৫টি শিক্ষাবৃত্তি চালুর ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “আমি আরবি বিভাগে এককালীন ২৫টি শিক্ষাবৃত্তি দেব। যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের শিক্ষা উপকরণ কিনতে পারবে। যাদের বাবা নেই—এতিম ও অসচ্ছল—তাদের জন্য এই শিক্ষাবৃত্তি।”
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্নার স্থাপনেরও আশ্বাস দেন তিনি। এ বিষয়ে উপাচার্য উদ্যোগ নিলে তার সার্বিক খরচ মন্ত্রণালয় বহন করবে বলে জানান উপদেষ্টা। উল্লেখ্য, আ ফ ম খালিদ হোসেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ থেকে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
