পেট কেটে লাশ নদীতে, নিজের হাতে গুলি: জিয়াউলের বিরুদ্ধে তিন শতাধিক হত্যার অভিযোগ


আওয়ামী লীগ শাসনামলে সংঘটিত তিন শতাধিক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এনটিএমসির সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনটি অভিযোগ দাখিল করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। এসব অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তিন শতাধিক মানুষকে গুম ও বিনা বিচারে হত্যার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ অভিযোগগুলো আমলে নেন। একইসঙ্গে অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানির জন্য আগামী ২১ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন আদালত।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালে মেজর পদে র‍্যাবে যোগ দেওয়ার পর জিয়াউল আহসান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অত্যন্ত আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন। ফলে ২০২৪ সালে বাধ্যতামূলক অবসরের আগ পর্যন্ত তাকে আর কখনোই সেনাবাহিনীতে ফেরত যেতে হয়নি। কোনো ব্যাটালিয়ন বা ফর্মেশন কমান্ডের অভিজ্ঞতা ছাড়াই নজিরবিহীনভাবে তিনি মেজর জেনারেল পদে উন্নীত হন।

অভিযোগে বলা হয়, ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে র‍্যাব সদর দপ্তর থেকে সজলসহ তিন থেকে চারজন বন্দীকে নিয়ে গাজীপুরের দিকে রওনা হন জিয়াউল আহসান। ঢাকা বাইপাস সড়কে বিভিন্ন স্থানে গাড়ি থামিয়ে বন্দীদের চোখ ও হাত বাঁধা অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়। এর মধ্যে একাধিক বন্দীকে জিয়াউল আহসান নিজ হাতে গুলি করেন এবং লাশগুলো রাস্তার পাশে ও খালে ফেলে দেন।

প্রসিকিউশনের ভাষ্যমতে, বরগুনার পাথরঘাটার চরদুয়ানী এলাকা ও বলেশ্বর নদীর মোহনা ছিল জিয়াউল আহসানের পরিচালিত হত্যাকাণ্ডের অন্যতম ‘হটস্পট’। গভীর রাতে বন্দীদের ট্রলার বা নৌকায় করে নদীর মাঝখানে নিয়ে গিয়ে মাথা বা বুকে বালিশ চেপে গুলি করা হতো। পরে পেট কেটে সিমেন্টের ব্লক বেঁধে লাশ পানিতে ডুবিয়ে দেওয়া হতো। ‘গেস্টাপো’ বা ‘গলফ’ কোডনামে পরিচালিত এই পদ্ধতিতে সাবেক বিডিআর সদস্য নজরুল ইসলাম মল্লিকসহ অন্তত ৫০ জনকে হত্যা করা হয়েছে।

সুন্দরবনে তথাকথিত বনদস্যু দমনের নামে গুম থাকা ব্যক্তিদের সাজানো বন্দুকযুদ্ধে হত্যা করা হতো বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ‘অপারেশন নিশানখালী’, ‘অপারেশন মরা ভোলা’ ও ‘অপারেশন কটকা’র মতো অভিযানে অন্তত ৫০ জনকে হত্যা করা হয়, যেখানে অনেক ক্ষেত্রে জিয়াউল আহসান নিজেই উপস্থিত ছিলেন।

চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, সাবেক এই সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গাজীপুরে তিনজন, বরগুনায় ৫০ জন এবং সুন্দরবনে ৫০ জনকে হত্যার তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা নদীতে লাশ গুম, বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমের গুম এবং হেফাজতের সমাবেশে গণহত্যার বিষয়গুলো তদন্তাধীন রয়েছে।