
বিজয় দিবস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে ইসলামের বিধান ও মুসলমানদের ধর্মীয় প্রতীক দাড়ি-টুপিকে ‘রাজাকারের প্রতীক’ হিসেবে উপস্থাপন করে ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটি এই প্রবণতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী এই প্রতিবাদ জানান। সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক মাওলানা আফসার মাহমুদ বিবৃতিটি পাঠান।
বিবৃতিতে মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, “বিজয় দিবসকে উপলক্ষ করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় দাড়ি-টুপিকে রাজাকারের প্রতীক বানিয়ে ঘৃণার চর্চা আবারও শুরু হয়েছে। পতিত ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলে মুসলমানি পরিচয় ও নাম-নিশানাকে ঘৃণার লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ইসলাম নির্মূলের রাজনীতি করা হয়েছিল। জুলাই বিপ্লবীরা শান্তি ও সহাবস্থানের পথ বেছে নেওয়ার সুযোগে হিন্দুত্ববাদী ও কালচারাল ফ্যাসিস্ট বাম সেকুলাররা আবারও উৎপাত শুরু করেছে।”
ফের বিভাজন তৈরি করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত করলে হেফাজত চুপ করে বসে থাকবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ভারতের কথিত আধিপত্যবাদের সমালোচনা করে হেফাজতের এই নেতা বলেন, “আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, কথিত ‘রাজাকার’ বয়ান ধসে যাওয়ায় ভারতের হুকুমবরদার ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতন ঘটেছিল। ভারতীয় বয়ানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রত্যাখ্যান করেছে জুলাইয়ের নতুন বিপ্লবী প্রজন্ম। একাত্তরের মহান জনযুদ্ধকে আধিপত্যবাদী শক্তির হাতে যারা তুলে দিয়েছিল, তারা ক্ষমতার স্বার্থে স্বজাতির সঙ্গে বেঈমানি করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “ভারতীয় বয়ানে মুক্তিযুদ্ধের প্রচারকরা মূলত ফ্যাসিজম ও আধিপত্যবাদের দালাল। তারা একাত্তরকে ব্লাসফেমিতে পরিণত করেছে। একাত্তরের জনযুদ্ধ কারো একার পিতার সম্পত্তি নয়।”
ইতিহাস পুনর্পাঠের আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, “সাতচল্লিশ, একাত্তর ও চব্বিশ—আমাদের আজাদীর সিলসিলা। কোনোটিকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। বদরুদ্দীন উমরের মতো প্রাজ্ঞ ইতিহাসবিদ বলে গেছেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের লিখিত ইতিহাস প্রায় ৯০ ভাগই মিথ্যা। এই বিজয়ের মাসে আমরা একাত্তরের জনযুদ্ধ ও বিজয় নিয়ে নির্মোহ ইতিহাস নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে বিদগ্ধ ইতিহাসবিদদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।”
