
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণে দেশের ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্রের সবকটিতেই সিসি ক্যামেরা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরার ব্যবহার নিশ্চিতে জোর দেওয়া হচ্ছে।
ইসি সূত্র জানিয়েছে, শুরুতে ব্যয় বৃদ্ধির শঙ্কায় কমিশন কিছুটা দোটানায় থাকলেও রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি এবং মাঠ পর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রে আগে থেকেই সিসি ক্যামেরা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যেসব প্রতিষ্ঠানে সিসি ক্যামেরা আছে, সেগুলোকে ভোটের দিন সচল রাখার নির্দেশনা দেওয়া হবে। আর যেসব কেন্দ্রে ক্যামেরা নেই, সেখানে শুধু ভোটের দিনের জন্য অস্থায়ীভাবে ক্যামেরা বসানো হবে। এতে অতিরিক্ত ব্যয় খুব একটা বাড়বে না।
রাজনৈতিক দলের দাবি ও ইসির সিদ্ধান্ত
ইসি শুরুতে সিসি ক্যামেরা ব্যবহারে আগ্রহী না থাকলেও বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বেশ কিছু রাজনৈতিক দল সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানায়। দলগুলোর দাবির প্রেক্ষিতে এবং সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকের পর ইসি সব কেন্দ্রে ক্যামেরা ব্যবহারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।
এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বলেন, “এবারের নির্বাচনে ৪২ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। ভোটকেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত যেসব প্রতিষ্ঠানে সিসিটিভি আছে, সেগুলোকে সচল রাখতে নির্দেশনা দিতে হবে। এসব কেন্দ্র ভোটারের চলাচল উপযোগী করা এবং যেসব কেন্দ্রে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ নেই, সেখানে সংযোগ নিশ্চিত করতে হবে।”
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের পরিসংখ্যান
পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) ইসিকে জানিয়েছে, এবারের নির্বাচনে ৮ হাজার ২২৬টি ভোটকেন্দ্রকে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ এবং ২০ হাজার ৪৩৭টি কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইসি অবশ্য এগুলোকে ‘গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র’ হিসেবে বিবেচনা করছে। যেহেতু এবার সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে, তাই এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
নিরাপত্তা ও নির্দেশনা
নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ভোটকেন্দ্রে বিদ্যমান সিসিটিভি সংযোগ সচল রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আর সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় লিড মিনিস্ট্রি হিসেবে কাজ করবে।
আরেক নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, ভোটের দিন সন্ধ্যার পর ভোটকেন্দ্রে বিদ্যুৎ সংযোগ অত্যাবশ্যক। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপাররা কমপক্ষে ৩০ শতাংশ ভোটকেন্দ্র এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র সশরীরে পরিদর্শন করবেন।
ভোটের পরিসংখ্যান ও সময়সূচি
এবার দেশের ৬৪ জেলায় ৩০০ আসনে মোট ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করা হয়েছে। মোট ভোটকক্ষ ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭৩৯টি। ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা থাকলে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং কোনো অপরাধ ঘটলে ভিডিও ফুটেজ দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। নির্দেশনা বাস্তবায়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও বিদ্যুৎ বিভাগকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
