
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম মহানগরে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী বাহিনী বা অরাজকতা বরদাশত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার ও অতিরিক্ত আইজিপি হাসিব আজিজ। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, নির্বাচন বানচালের চেষ্টা বা জনমনে ভীতি সঞ্চার করলে প্রয়োজনে ‘চরম পন্থা’ অবলম্বন করতেও পুলিশ পিছপা হবে না।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নির্বাচন ভাবনা নিয়ে কথা বলার সময় তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
সিএমপি কমিশনার বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীতে পুলিশ বাহিনী ছাড়া অন্য কোনো বাহিনী থাকতে পারবে না। সাজ্জাদ বাহিনী, লাল্টু বাহিনী, পল্টু বাহিনী—এই সমস্ত বাহিনীকে নির্মূল করতে হবে। নির্মূল মানে নির্মূল। প্রয়োজনে চরম পন্থা অবলম্বন করতেও আমি বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করব না।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেন হাসিব আজিজ। তিনি বলেন, বিতাড়িত স্বৈরাচার এবং তাদের বিদেশি প্রভুরা বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা করছে। নির্বাচনটি তাদের জন্য একটি ‘লিটমাস টেস্ট’। তারা চায় সহিংসতা করে ভোটার উপস্থিতি কমাতে। তবে আমরা সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত।
ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে জোর দিয়ে তিনি বলেন, যদি সাধারণ ভোটার, বিশেষ করে সংখ্যালঘু ও নারী ভোটারদের মধ্যে আমরা নিরাপত্তার বোধ তৈরি করতে পারি, তবেই নির্বাচনের দিন সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। আমাদের সমস্ত প্রস্তুতি সেই লক্ষ্যেই সাজানো হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিবরণ দিয়ে সিএমপি কমিশনার জানান, নগরজুড়ে চেকপোস্ট ও টহল জোরদার করা হয়েছে। সন্দেহভাজন যানবাহনে তল্লাশি চলছে। তিনি বলেন, নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুলিশের কোনো সদস্য ব্যারাকে অলস সময় কাটাবে না। কমিশনার থেকে কনস্টেবল পর্যন্ত সবাই মাঠে থাকবে। স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং নির্বাচনের পরেও সাত দিন পর্যন্ত এই কঠোর নিরাপত্তা বলয় বজায় থাকবে।
লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, খোয়া যাওয়া অস্ত্রের ৮০ শতাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি ২০ শতাংশ অস্ত্র পাহাড়ি এলাকার বিচ্ছিন্নতাবাদী বা ইনসার্জেন্সি গ্রুপের হাতে চলে গেছে বলে তথ্য রয়েছে। তবে নির্বাচনের আগে এসব উদ্ধারে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চলছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে হাসিব আজিজ বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজন করতে পুলিশ বদ্ধপরিকর। প্রধান উপদেষ্টাকে ‘জাতীয় সম্পদ’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক ও দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে ও চ্যানেল ওয়ানের ব্যুরো প্রধান শাহনেওয়াজ রিটনের সঞ্চালনায় এই সভায় বক্তব্য রাখেন পিপলস ভিউ সম্পাদক ওসমান গণি মনসুর, দৈনিক কালের কণ্ঠের ব্যুরো প্রধান মুস্তফা নঈম, প্রেস ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মিয়া মো. আরিফ ও কার্যকরী সদস্য সালেহ নোমান প্রমুখ।
সভায় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
