মুক্তিযুদ্ধের উপ-সেনাপতি এ কে খন্দকার আর নেই


মুক্তিযুদ্ধের উপ-সেনাপতি (ডেপুটি চিফ অব স্টাফ) ও বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রথম প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খন্দকার বীর উত্তম মারা গেছেন। শনিবার সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি শেষনশ্বাস ত্যাগ করেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক মুহূর্তে মুক্তিবাহিনীর প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এ কে খন্দকার। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ছিলেন বাহিনীর উপপ্রধান। স্বাধীনতার পর তিনি বিমানবাহিনীর প্রথম প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং তার নেতৃত্বেই যুদ্ধবিধ্বস্ত বিমানবাহিনী পুনর্গঠিত হয়। ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্বে ছিলেন।

এ কে খন্দকারের জন্ম ১৯৩০ সালে বাবার কর্মস্থল রংপুরে। তবে তার পৈতৃক নিবাস পাবনা জেলার বেড়া উপজেলার পুরান ভারেঙ্গা গ্রামে। ১৯৪৭ সালে ম্যাট্রিকুলেশন ও ১৯৪৯ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর ১৯৫২ সালে পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের ঠিক আগে তিনি পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর দ্বিতীয় প্রধান ছিলেন। সেখান থেকে বেরিয়ে এসে গ্রুপ ক্যাপ্টেন হিসেবে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

পরবর্তী সময়ে তিনি রাজনীতিতে যুক্ত হন। এইচ এম এরশাদ সরকারের আমলে তিনি প্রথমবারের মতো মন্ত্রী হন। পরে ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।

মহান মুক্তিযুদ্ধে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৭৩ সালে তাকে ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত করা হয়। ২০১১ সালে তিনি লাভ করেন স্বাধীনতা পদক। তার লেখা ‘১৯৭১: ভেতরে বাইরে’ বইটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত গ্রন্থ হিসেবে পরিচিত।