
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে থানা থেকে লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার নিশ্চিত করা না গেলে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন।
সোমবার সন্ধ্যায় সাতকানিয়ার কেরানীহাটের একটি রেস্তোরাঁয় স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
নাজমুল মোস্তফা অভিযোগ করে বলেন, ৫ আগস্টের পর সাতকানিয়ায় সংঘটিত জোড়া খুনের প্রকৃত অপরাধীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। এসব হত্যাকাণ্ডে থানা থেকে লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিনিয়ত নানা অজুহাতে রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ হামলার শিকার হচ্ছেন এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলেই তাদের ভয়ভীতি ও নির্যাতনের মুখে পড়তে হচ্ছে।
সাধারণ ভোটারদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভোটাররা নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছে। তাই নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে হলে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের কোনো বিকল্প নেই।
সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ায় অবৈধ অস্ত্রের যথেচ্ছ ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনের প্রতি তিনি আহ্বান জানান, ভোটগ্রহণের আগে এই জনপদে অস্ত্র উদ্ধারে যেন সাঁড়াশি ও চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হয়। অন্যথায় সন্ত্রাসীরা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সাধারণ ভোটারদের ভোট প্রদান থেকে বিরত রাখতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
বিএনপি কোনো ধরনের সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় দেয় না জানিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে নাজমুল মোস্তফা বলেন, ভোটাররা যদি সারিবদ্ধভাবে নিরাপদ পরিবেশে ভোট দিতে পারেন, তাহলে ধানের শীষের বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না। এজন্য ভোটারদের নিরাপত্তা আগে নিশ্চিত করতে হবে।
নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি প্রশাসনের প্রতিও তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এখনই প্রকৃত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে ভোটারদের ভয়মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।
মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির ১ নম্বর সদস্য অধ্যাপক শেখ মো. মহিউদ্দিন বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, বিএনপি খেটে খাওয়া মানুষের দল। কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষের সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মার সম্পর্ক শুরু থেকেই অটুট। খাল কেটে কৃষকদের ভাতের নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন মেজর জিয়া। আগামীতে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে দেশের সব ক্ষেত্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হবে।
এ সময় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে জসিম উদ্দিন আবদুল্লাহ, জান্নাতুল নাঈম রিকু, অ্যাডভোকেট এরশাদুর রহমান রিটু, নুরুল কবির বাদশা, হাজী আহমদ কবির, অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসাইন, অ্যাডভোকেট হাফিজুল ইসলাম মানিক, শাহাব উদ্দিন রাশেদ, হাসান আলী, সাজেদুল আলম মিঠু, হাজী আবু তালেব, মো. শফি সওদাগর, মো. ইব্রাহিম মেম্বার, মোদাচ্ছির আলম, জুনাইদুল হক চৌধুরী ও মো. আরিফ উপস্থিত ছিলেন।
