চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেললাইন ডুয়েল গেজ হচ্ছে, নতুন ৩০টি ইঞ্জিন কিনবে রেলওয়ে


চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার রেলপথ ডুয়েল গেজে রূপান্তর এবং ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজার ট্রেন চলাচলের সুবিধার্থে আট হাজার ২৮০ কোটি টাকার (৬৯ কোটি ডলার) ঋণ দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও এডিবির মধ্যে এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি সই হয়েছে।

এই প্রকল্পের আওতায় আড়াই কিলোমিটার বাইপাস সড়কও নির্মাণ করা হবে, যার ফলে চট্টগ্রাম স্টেশনে না থামিয়েই ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজারে ট্রেন চলাচল করতে পারবে। দক্ষিণ এশিয়া উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (সাসেক) চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথ প্রকল্পের অধীনে এই উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়িত হবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ইআরডি সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং এডিবির পক্ষে কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিওং সই করেন। এ সময় দুই পক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ইআরডি ও এডিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পাঁচ বছরের রেয়াতকালসহ ২৫ বছরে এই ঋণ পরিশোধ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিওং বলেন, এই প্রকল্পটি ঢাকা ও কক্সবাজারের মধ্যে রেল যোগাযোগে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এর ফলে এই অঞ্চলের যোগাযোগ কাঠামো সড়ক পরিবহন থেকে রেল পরিবহনের দিকে ঝুঁকবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার করিডোরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড জোরদার হবে এবং বিশেষ করে পর্যটন ও মৎস্য শিল্পে নতুন গতি আসবে।

রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ‘চট্টগ্রাম-দোহাজারী মিটার গেজ রেলপথকে ডুয়েল গেজ রেলপথে রূপান্তর’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো চট্টগ্রাম-দোহাজারী অংশে ৫২ কিলোমিটার ট্র্যাককে ডুয়েল গেজ ট্র্যাকে রূপান্তর করা এবং নির্মাণাধীন দোহাজারী-কক্সবাজার রেল করিডরের সঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল করিডরের সংযোগ স্থাপন করা।

এর মাধ্যমে রাজধানী ঢাকা ও পর্যটন নগরী কক্সবাজারের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন রেল সেবা চালু করা সম্ভব হবে। এছাড়া প্রকল্পের আওতায় ট্রেনের গতিসীমা বাড়ানো, পুরনো লোকোমোটিভ প্রতিস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ কেনা এবং নতুন ৩০টি লোকোমোটিভ সংগ্রহ করা হবে।

এডিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ট্রান্স-এশীয় রেলওয়ে নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার করিডোর বর্তমানে দেশের রেলপথে মোট যাত্রী পরিবহনের ৩২ শতাংশ এবং মোট পণ্য পরিবহনের ৫৫ শতাংশ বহন করছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে আঞ্চলিক পরিবহন সেবায় গতি আসার পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়ন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।