ভবন নির্মাণ নিয়ে সিডিএতে লঙ্কাকাণ্ড, সত্যতা পেল দুদক


ভবনের নকশা অনুমোদনের পরও অনুমোদনপত্র আটকে রেখে ঘুষ দাবি ও হয়রানির অভিযোগে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার দুপুরে পরিচালিত এই অভিযানে নকশার অনুমোদনপত্র আটকে রাখার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে সংস্থাটি।

দুদক ও সিডিএ সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ার সৈয়দ শাহ সড়ক এলাকায় একটি ১৩ তলা ভবন নির্মাণের জন্য আবেদন করেছিলেন হাসান মুরাদ নামের এক ব্যক্তি। ২০২৩ সালের ২৩ মে তিনি ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র (এলইউসি) পান। এরপর ২০২৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর বিশেষ আবেদন এবং ২০২৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বিশেষ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২ এপ্রিল নকশা অনুমোদনের জন্য আবেদন করলে ওই বছরের ১৩ মে তা অনুমোদন করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও সেই অনুমোদনপত্র তাঁকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।

ভুক্তভোগী হাসান মুরাদের অভিযোগে সিডিএর তৎকালীন অথরাইজড কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান, সহকারী অথরাইজড অফিসার মোহাম্মদ ইলিয়াস আক্তার, সহকারী নগর–পরিকল্পনাবিদ কামাল হোসেন এবং সেকশন অফিসার আলমগীর তালুকদারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীর দাবি, অনুমোদনপত্র ইস্যুর কথা বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দফায় দফায় প্রায় ৫০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন এবং আরও অর্থ দাবি করে আসছেন। টাকা না দেওয়ায় নথি আটকে রেখে ভবন ভাঙা ও জরিমানার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযান শেষে দুদকের সহকারী পরিচালক সায়েদ আলম সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিক তদন্তে নকশা অনুমোদন হওয়ার পরও অনুমোদনপত্র আটকে রাখার অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেছে। ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে বিস্তারিত তদন্ত করা হবে। তিনি আরও বলেন, নকশা অনুমোদনের পর তা আটকে রাখা গুরুতর অনিয়ম। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নথি ও আদেশ পর্যালোচনা করে কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ঘুষ দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৎকালীন অথরাইজড কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান ও বর্তমান অথরাইজড কর্মকর্তা কাজী কাদের নেওয়াজ। তবে অনুমোদনের পরও কাগজ না দেওয়ার বিষয়টি তাঁরা স্বীকার করেছেন।

এ বিষয়ে অথরাইজড কর্মকর্তা কাজী কাদের নেওয়াজ বলেন, ভবন নির্মাণের আবেদনের পর যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু একটি পক্ষ অভিযোগ করে যে, নকশা অনুমোদনের আগেই মালিকপক্ষ নির্মাণকাজ শুরু করেছেন। পরিদর্শনে এর প্রমাণ মেলায় মালিকপক্ষকে তা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু তাঁরা সেই নির্দেশনা মানেননি। পরে তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী নকশার অনুমোদনপত্র বাতিল করার প্রক্রিয়া থাকায় তা মালিকপক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।