
দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁকে স্বাগত জানাতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রাজধানীর পূর্বাচলের ‘জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে’ (৩০০ ফুট এলাকা) লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠেছে। ভোরের আলো ফোটার পর থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সংবর্ধনাস্থলে জড়ো হতে শুরু করেন দলটির বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও সমর্থক।
রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড থেকে শুরু করে গণসংবর্ধনা মঞ্চ পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে বিভিন্ন রঙের ব্যানার ও ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হয়েছে। কুড়িল মোড় থেকে কিছুটা দূরে সড়কের উত্তর পাশে দক্ষিণমুখী করে তৈরি করা হয়েছে ৪৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩৬ ফুট প্রস্থের বিশাল মঞ্চ। সেখানেই দুপুরের পর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। মঞ্চে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের জন্য আসন রাখা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নেতা-কর্মীরা ‘মা-মাটি ডাকছে, তারেক রহমান আসছে’, ‘তারেক রহমান বীরের বেশে, আসছে ফিরে বাংলাদেশে’, ‘তারেক রহমান আসছে, বাংলাদেশ হাসছে’সহ নানা স্লোগানে পুরো এলাকা মুখর করে তুলেছেন। জনদুর্ভোগ এড়াতে ছুটির দিনে তারেক রহমান দেশে ফিরছেন বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি যাতে সবাই দেখতে পারেন, সেজন্য এক্সপ্রেসওয়ে এলাকায় কয়েকটি বড় ইলেকট্রনিক স্ক্রিন বসানো হয়েছে এবং ল্যাম্পপোস্টে শতাধিক মাইক লাগানো হয়েছে।
কুমিল্লা মহানগর বিএনপি নেতা শোয়াইব আহমেদ সোহেল বলেন, আমরা এত দিন আমাদের নেতার অপেক্ষায় ছিলাম। অবশেষে তিনি আসলেন, আমাদের অপেক্ষা ফুরিয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের গণতন্ত্র এবং মানুষের মুক্তি নিশ্চিত হবে।
গণসংবর্ধনাস্থল ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন। মঞ্চের দুই পাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য তাঁবু স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া বিএনপির চেয়ারপারসনস সিকিউরিটি ফোর্সের (সিএসএফ) সদস্যরাও নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন।
সূচি অনুযায়ী, বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তারেক রহমানকে বহনকারী বিমানটির অবতরণের কথা রয়েছে। বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি গণসংবর্ধনা মঞ্চে যোগ দেবেন। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাঁর মা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেনের পটপরিবর্তনের পর গ্রেপ্তার হন তারেক রহমান। পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য সপরিবার যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান তিনি। এরপর থেকে তিনি লন্ডনেই অবস্থান করছিলেন।
