পটিয়ায় ১১ জনের মনোনয়ন সংগ্রহ, ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে নির্বাচনী উত্তাপ বাড়ছে। এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এখন পর্যন্ত ১১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে বিএনপির পাঁচজন ছাড়াও জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, ইসলামী ফ্রন্ট, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), ইনসানিয়াত বিপ্লব ও একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষণে উঠে আসছে, বিএনপি ও জামায়াতের ভোটের মাঠে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারেন ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী।

নির্বাচনী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকারীদের মধ্যে বিএনপি থেকে রয়েছেন এনামুল হক এনাম, সাবেক সংসদ সদস্য গাজী মুহাম্মদ শাহজাহান জুয়েল, সৈয়দ সাদাত আহমদ, সাইফুদ্দীন সালাম মিঠু ও গাজী সিরাজ উল্লাহ। জামায়াতে ইসলামী থেকে ডা. ফরিদুল আলম, জাতীয় পার্টি থেকে নুরুচ্ছফা সরকার, ইসলামী ফ্রন্ট থেকে ছৈয়দ এয়ার মুহাম্মদ পেয়ারু, এলডিপি থেকে এম ইয়াকুব আলী, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ থেকে আবু তালেব হেলালী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে শাহাদাত হোসাইন হিরু মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পটিয়া আসনে বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী ছৈয়দ এয়ার মুহাম্মদ পেয়ারুর সঙ্গে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হতে পারে। এর আগে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় পেয়ারুর একটি নিজস্ব ভোটব্যাংক ও ইতিবাচক ভাবমূর্তি রয়েছে। গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় তাদের সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের একটি অংশের সমর্থন ইসলামী ফ্রন্টের দিকে ঝুঁকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে ভোটের মাঠে বিএনপি-জামায়াতের জন্য তিনি বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াতে পারেন।

এদিকে বিএনপি জোট থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী নেজামে ইসলাম পার্টি এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী এখনো মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেননি। তিনি জোটগতভাবে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার আশায় আছেন। অন্যদিকে গণঅধিকার পরিষদের ডা. এমদাদুল হাসানও কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন। ছাত্রদের গড়া নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে ব্যবসায়ী শহীদুল আলমের নাম শোনা গেলেও দলটি এখনো চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করেনি।

বিএনপির দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, এনামুল হক এনামকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। বুধবার সারাদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর মনোনয়নপত্রের একটি কপি ছড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে। এলডিপি এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় এবং গণঅধিকার পরিষদকে দুটি আসনে সীমিত রাখায় পটিয়ায় বিএনপির প্রার্থীর ওপর চাপ কিছুটা কমেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে জামায়াতে ইসলামী তাদের প্রার্থী ডা. ফরিদুল আলমের পক্ষে বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্পসহ নানা সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে জনসমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে।

পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান জানান, নির্বাচনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের প্যানেল তৈরি করা হয়েছে এবং ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ১১৩টি ভোটকেন্দ্রের সংস্কারকাজ চলছে। নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫৩ হাজার ১৯৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৮৪ হাজার ৩৫২ জন, নারী ১ লাখ ৬৮ হাজার ৮৪২ জন এবং একজন হিজড়া ভোটার রয়েছেন।