ফটিকছড়িতে ইটভাটার মেশিনে আটকে শ্রমিকের মৃত্যু, শরীর ছিন্নভিন্ন


চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ইটভাটার মাটি কাটার স্বয়ংক্রিয় মেশিনে (অটোকল) আটকে মো. রায়হান উদ্দিন নামের এক শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের ফকিরাচাঁন এলাকায় এমএ ব্রিকস নামের একটি ইটভাটায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। মেশিনের ভেতর আটকে তাঁর শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়।

নিহত ১৯ বছর বয়সী রায়হান উদ্দিন ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার ভাটাখড়ি এলাকার মোহাম্মদ সোহাগের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মো. রেজাউল করিমের মালিকানাধীন ওই ইটভাটায় অটোকলের চালক হিসেবে কাজ করতেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে অটোকলে মাটি দেওয়ার সময় অসাবধানতাবশত রায়হানের একটি পা মেশিনে আটকে যায়। মুহূর্তের মধ্যে ঘূর্ণায়মান মেশিনের ভেতর তাঁর শরীর দুমড়েমুচড়ে যায়। উপস্থিত লোকজন তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।

ফটিকছড়ি ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) মো. কামাল উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে তাঁদের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মেশিনের ভেতর থেকে রায়হানের ছিন্নভিন্ন মরদেহ উদ্ধার করে। পরে পুলিশের সহায়তায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ছিন্নভিন্ন মরদেহটি ঘিরে রেখেছে উৎসুক জনতা। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন।

দুর্ঘটনার বিষয়ে ইটভাটার মালিক মো. রেজাউল করিম বলেন, ভদ্র এবং বিনয়ী এই শ্রমিককে হারিয়ে আমরা এখন পাগলপ্রায়। আমরা তাঁর পরিবারকে সর্বোচ্চ সহায়তা করার চেষ্টা করব। ফটিকছড়ি ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মো. আমিনুল হক চৌধুরী বলেন, ইট কাটার মেশিনে মাটি দেওয়ার সময় অসাবধানতায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। এটি নিতান্তই মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক।

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম জানান, উদ্ধার করার পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার আইনগত বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।