
বিয়ের আনন্দঘন মুহূর্ত সাধারণত গান-বাজনা আর ভোজেই সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু চট্টগ্রামের পটিয়ায় দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। জীবনের নতুন অধ্যায় শুরুর মুহূর্তে বিয়ের মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্ল্যাকার্ড হাতে এক নবদম্পতি চাইলেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার। শুক্রবার পটিয়া উপজেলার শান্তিরহাটের মা সুনাম কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই বিয়ের আয়োজনটি পরিণত হয় এক নীরব প্রতিবাদী সমাবেশে।
পটিয়া উপজেলার নাইখাইন গ্রামের মাসুদুল হক মাসুমের সঙ্গে জিরি গ্রামের সাবিনা আক্তার সুমাইয়ার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা ছিল শুক্রবার। বিয়ের মঞ্চে বর-কনে উভয়েই ‘জাস্টিস ফর হাদি’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে ছবি তোলেন। শুধু বর-কনেই নন, অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরাও তাঁদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। এ সময় অতিথিদের হাতে দেখা যায় ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস ফর ওসমান হাদি’, ‘জান দেবো, জুলাই দিবো না’, ‘আমি আমাদের শত্রুর সাথেও ইনসাফ চাই’, ‘শহিদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার চাই’ ও ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ড।
বিয়ে বাড়িতে এমন ব্যতিক্রমী ও প্রতিবাদী উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এই উদ্যোগের বিষয়ে বর মাসুদুল হক মাসুম বলেন, বিয়ে জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই আনন্দের মুহূর্ত থেকেই আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে একটি বার্তা দিতে চেয়েছি। হাদির ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়া জরুরি। এই দাবি যেন কেউ ভুলে না যায়, সেটাই আমাদের উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত মাসুমের বন্ধু তারেক বলেন, আজকাল মানুষ বিয়েতে শুধু আনন্দেই মেতে থাকে। কিন্তু মাসুম ও সুমাইয়া দেখিয়ে দিয়েছে, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও ন্যায়বিচারের পক্ষে যেকোনো সময় আওয়াজ তোলা যায়। তাঁদের এই সাহসী উদ্যোগ আমাদের সবাইকে ভাবতে বাধ্য করেছে। অনুষ্ঠানে আগত অতিথিরাও নবদম্পতির এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান এবং দ্রুত হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে বিচারের দাবি জানান।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টন এলাকায় চলন্ত একটি মোটরসাইকেল থেকে দুর্বৃত্তরা রিকশায় থাকা ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাঁকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি মারা যান।
