পাহাড়ে প্রার্থী দিচ্ছে না সন্তু লারমার দল


আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠন জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)। রাঙামাটি ও বান্দরবান আসনে প্রার্থী দেওয়ার জোর গুঞ্জন থাকলেও কেন্দ্রীয় কমিটির সর্বশেষ সভায় নির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংগঠনের প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের সম্পাদক সজীব চাকমা।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তিন পার্বত্য জেলা—বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির সংসদীয় আসনগুলোতে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে নেতাকর্মীদের একাংশের আগ্রহ থাকলেও কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতারা এ নিয়ে দোদুল্যমান ছিলেন। শেষ পর্যন্ত কর্মী ও সমর্থকদের মতামত যাচাই করা হয়। অধিকাংশ কর্মীই বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রার্থী না দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁদের যুক্তি, পার্বত্য অঞ্চলে অতীতের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা সুখকর নয় এবং সমতলের মতো এখানে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করা কঠিন। সমর্থকদের এই শঙ্কা ও মতামতকে মূল্যায়ন করেই কেন্দ্রীয় নেতারা নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

নির্বাচনে কোনো নির্দিষ্ট দল বা নির্দলীয় প্রার্থীকে জেএসএস সমর্থন দেবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা জানান, এ নিয়ে আপাতত কোনো দলীয় সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে পরিস্থিতি সাপেক্ষে দল পরবর্তীতে বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।

এর আগে গত ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চুক্তির বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রাঙামাটিতে আয়োজিত এক সমাবেশে জেএসএসের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ঊষাতন তালুকদার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন। এরপর থেকে বান্দরবান (৩০০) আসনে দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক কে এস মং মারমা সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রচারণাও চালিয়েছিলেন। একইভাবে রাঙামাটি (২৯৯) আসনেও সাবেক সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদারের পক্ষে ভেতরে-ভেতরে প্রচারণা চলছিল। তবে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের ফলে এখন আর তাঁরা নির্বাচনে লড়ছেন না।

উল্লেখ্য, জেএসএস ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল এবং সেবার রাঙামাটি আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে হারিয়ে ঊষাতন তালুকদার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনে ঊষাতন তালুকদারকে কারচুপির মাধ্যমে হারিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে দলের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করে আসছেন।