
চট্টগ্রাম-রাঙামাটি আঞ্চলিক মহাসড়কসহ হাটহাজারীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অবৈধভাবে রাখা নির্মাণসামগ্রী অবশেষে সরানো হয়েছে। একুশে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর টনক নড়ে প্রশাসনের।
শনিবার বিকেলে উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে এসব নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে নেয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাটহাজারী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহেদ আরমান।
এর আগে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপর বিপজ্জনকভাবে নির্মাণসামগ্রী রেখে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে একুশে পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে ‘আগের মৃত্যু থেকে শিক্ষা নেই; হাটহাজারীতে ফের সড়কের ওপর নির্মাণ সামগ্রীর স্তূপ’ শিরোনামে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রশাসনের নজরে আসার পরই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
সরেজমিনে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার উপজেলার মেখল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের জান আলী চৌধুরী বাড়ির পশ্চিম পাশে সাবেক চেয়ারম্যান গিয়াসউদ্দিনের বাড়ির রাস্তার মাথায়, ইছাপুর খেলোয়াড় সমিতির সামনে, সত্তারঘাটের পশ্চিমে, ফয়জিয়া বাজার, পূবালী ব্যাংকের সামনে, পৌর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে, উপজেলা পরিষদের মূল ফটকের পূর্ব পাশে, চট্টগ্রাম-অক্সিজেন মহাসড়কের এগারো মাইল এলাকাসহ মির্জাপুর ইউপির চারিয়া মদিনা মসজিদ ও বোর্ড স্কুল সংলগ্ন এলাকায় সড়কের ওপর নির্মাণসামগ্রীর স্তূপ দেখা গিয়েছিল।
স্থানীয়রা জানান, ব্যস্ততম মহাসড়কে এভাবে মালামাল রাখায় যেকোনো মুহূর্তে প্রাণহানির শঙ্কা ছিল। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৯ ডিসেম্বর মেখল ইউনিয়নের ওই একই স্থানে সড়কের ওপর রাখা বালুর স্তূপের কারণে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান মো. হাসান তারেক নামের ২৪ বছর বয়সী এক নববিবাহিত যুবক। মাত্র চার মাস আগে তাঁর বিয়ে হয়েছিল।
এ বিষয়ে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মু. আবদুল্লাহ আল মুমিন বলেন, বিষয়টি জানার পরপরই উপজেলা প্রশাসন মেখল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্ঘটনাকবলিত সেই স্থান থেকে নির্মাণসামগ্রীগুলো সরিয়ে ফেলেছে। এছাড়া বাকি স্থানগুলোতেও দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
