
জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে চলমান আলোচনার মধ্যেই জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাসনিম জারা। শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে দলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বার্তা দিয়ে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, কোনো দলের হয়ে নয়, আসন্ন নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসন থেকে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ছাত্র নেতৃত্বের দল হিসেবে পরিচিত এনসিপিতে তাসনিম জারার এই পদত্যাগ বড় ধরনের ভাঙনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। জানা গেছে, তাঁর স্বামী ও এনসিপির আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহও দল থেকে পদত্যাগ করতে পারেন। এনসিপি থেকে ঢাকা-৯ আসনে তাসনিম জারাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের প্রক্রিয়ার মধ্যেই তিনি সরে দাঁড়ালেন।
দলীয় গ্রুপে পদত্যাগের বার্তা দেওয়ার আগেই নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন তাসনিম জারা। তিনি লিখেছেন, বাস্তবিক প্রেক্ষাপটের কারণে আমি কোনো নির্দিষ্ট দল বা জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি আপনাদের এবং দেশের মানুষকে ওয়াদা করেছিলাম আপনাদের জন্য ও নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ার জন্য আমি লড়ব। পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, আমি আমার সেই ওয়াদা রক্ষা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাই এই নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৯ থেকে অংশগ্রহণ করব।
এর আগে নির্বাচনী ব্যয় মেটানোর জন্য ক্রাউডফান্ডিংয়ের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে যে অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন, তা ফেরত দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছেন। তাসনিম জারা ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, কিছুদিন আগে নির্বাচনী ফান্ডরেইজিংয়ের সময় আপনারা অনেকে ডোনেট করেছেন। আমার এই পরিবর্তিত সিদ্ধান্তের কারণে (স্বতন্ত্র হিসেবে লড়াই করা) যারা ডোনেট করা অর্থ ফেরত পেতে চান, তাদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা।
অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি জানান, যারা বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠিয়েছেন, তারা গুগল ফরমে ট্রানজেকশন আইডি ও বিস্তারিত তথ্য দিলে তা যাচাই করার পর ফেরত দেওয়া হবে। আর ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠানো টাকা ফেরতের প্রক্রিয়াও শিগগির জানিয়ে দেওয়া হবে।
