গৃহযুদ্ধের মধ্যেই মিয়ানমারে ভোট, বিস্ফোরণ ও রকেট হামলায় শিশু নিহত


সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের প্রায় পাঁচ বছর পর মিয়ানমারে নির্বাচন আয়োজন করেছে জান্তা সরকার। প্রবল বিরোধিতা ও চলমান গৃহযুদ্ধের মধ্যেই রোববার দেশটিতে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। তবে ভোট চলাকালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্ফোরণ ও বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

মিয়ানমারের বিরোধীরা এই নির্বাচনকে ‘সাজানো নাটক’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, জান্তা সরকার বহু রাজনৈতিক দল ভেঙে দিয়েছে এবং শীর্ষ নেতাদের কারাগারে পাঠিয়েছে। এছাড়া গৃহযুদ্ধের কারণে দেশের অর্ধেকের বেশি মানুষ ভোট প্রক্রিয়ার বাইরে রয়ে গেছে। তবে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ধ্বংসাত্মক অচলাবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে এবং নিজেদের ক্ষমতাকে বৈধতা দিতে জান্তা সরকার এই নির্বাচনের মাধ্যমে চীনের সহায়তা চাইছে।

ভোটের দিন সকালেই সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। রোববার ভোরে মান্দালয় অঞ্চলে একটি জনবসতিহীন বাড়িতে রকেট হামলা হয়। এ ঘটনায় তিনজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে বিবিসিকে নিশ্চিত করেছেন ওই অঞ্চলের চিফ মিনিস্টার। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।

এর আগে শনিবার রাতে থাইল্যান্ড সীমান্তের কাছে মায়াওয়াদি শহরে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে দশটিরও বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয় এক বাসিন্দা বিবিসিকে জানান, ওই হামলায় এক শিশু নিহত হয়েছে এবং মুমূর্ষু অবস্থায় তিনজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে নির্বাচনের বিরোধিতা বা কার্যক্রম ব্যাহত করার অভিযোগে দুই শতাধিক মানুষের বিরুদ্ধে একটি নতুন আইনের আওতায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এই আইনে মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এত কিছুর পরও ভোটকেন্দ্রে যাওয়া ভোটারদের কেউ কেউ বিবিসিকে বলেছেন, এবারের নির্বাচনটি তাঁদের কাছে আগের তুলনায় সুশৃঙ্খল এবং নিয়মতান্ত্রিক বলে মনে হচ্ছে।