হাদির স্মৃতি নিয়ে বাঁশখালীতে পাঠাগার, উদ্বোধন জানুয়ারিতে


‘ইনসাফের বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অব্যাহত রাখার দীপ্ত শপথ নিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক মুখপাত্র ও শহীদ ছাত্রনেতা শরীফ ওসমান হাদির স্মরণে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে নির্মিত হয়েছে একটি স্মৃতি পাঠাগার। উপজেলার চাম্বল ইউনিয়নের মুন্সিখীল গ্রামের চৌধুরী বাড়ি এলাকায় ‘শহীদ শরীফ ওসমান হাদি স্মৃতি পাঠাগার’ নামে এই প্রতিষ্ঠানটির নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।

উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, এটি কেবল বই পড়ার সাধারণ কোনো স্থান নয়; বরং এটি হবে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির আদর্শ, চিন্তা ও সংগ্রামের জীবন্ত প্রতিফলন। ন্যায়বিচার, মানবিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়াই এই পাঠাগারের মূল লক্ষ্য। স্থানীয় শিক্ষার্থী ও তরুণদের জন্য এটিকে একটি মুক্ত জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে।

পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠায় সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করছে মাওলানা জুলকারনাইন চৌধুরী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট। এছাড়া সাবেক ছাত্রনেতা আনিসুল আজমের পৃষ্ঠপোষকতায় এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে। ট্রাস্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২০২৬ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে পাঠাগারটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করে পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। উদ্বোধনের দিন হাদির স্মরণে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প এবং শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তীতে পাঠাগারটি জাতীয়করণের জন্য গ্রন্থাগার অধিদপ্তরে আবেদনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পাঠাগার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে পৃষ্ঠপোষক সাবেক ছাত্রনেতা আনিসুল আজম বলেন, শহীদ শরীফ ওসমান হাদি ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন একজন সংগ্রামী মানুষ। তাঁর স্বপ্ন ছিল ইনসাফভিত্তিক একটি বাংলাদেশ। এই স্মৃতি পাঠাগার শুধু একটি স্থাপনা নয়; এটি তাঁর চিন্তা ও আদর্শের ধারক হয়ে থাকবে।

তিনি আরও জানান, পাঠাগারে শহীদ হাদির স্মৃতিবিজড়িত দুটি পরিধেয় বস্ত্র দর্শনার্থীদের দেখার জন্য সংরক্ষণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে হাদির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। পাশাপাশি হাদির লেখা এবং তাঁর জীবন-সংগ্রামভিত্তিক গ্রন্থ, প্রবন্ধ ও স্মারক সংগ্রহ করে পাঠাগারে রাখা হবে, যাতে পাঠকরা তাঁর চিন্তাধারার সঙ্গে সরাসরি পরিচিত হতে পারেন।

স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও সচেতন মহল মনে করছেন, বর্তমান সময়ে তরুণ সমাজ যখন নানামুখী অবক্ষয়ের ঝুঁকিতে রয়েছে, তখন চাম্বলসহ আশপাশের এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য এই পাঠাগারটি একটি ‘অনুপ্রেরণার বাতিঘর’ হয়ে উঠবে। এখানে নিয়মিত পাঠচক্র, আলোচনা সভা ও আদর্শভিত্তিক পাঠ আয়োজনের মধ্য দিয়ে তরুণরা ন্যায়বোধ ও প্রতিবাদী চেতনার শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে।