
চট্টগ্রামের পটিয়ায় স্বামীর নির্যাতনে ইয়াছমিন আকতার নামের তিন সন্তানের জননী এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার কোলাগাঁও ইউনিয়নের বাণীগ্রাম এলাকায় স্বামীর বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ নিহতের গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়ার কথা জানিয়েছে।
নিহত ২৮ বছর বয়সী ইয়াছমিন আকতার পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের হরিণখাইন গ্রামের মৃত আবদুল জলিলের মেয়ে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী নুরু নবী পলাতক রয়েছেন। তিনি বাণীগ্রাম এলাকার খালা মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার বিকেল ৪টার দিকে হঠাৎ ইয়াছমিন অসুস্থ বোধ করছেন বলে প্রচার করা হয়। পরে তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এরপর লাশটি পুনরায় স্বামীর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। খবর পেয়ে পটিয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ইয়াছমিনের চাচাতো ভাই মো. লোকমান জানান, স্বামী নুরু নবী বিগত তিন বছর ধরে ইয়াছমিনকে নির্যাতন করে আসছিলেন। রোববার সকালেও ইয়াছমিন তাঁর মা নুর আয়েশাকে ফোন করে স্বামীর নির্যাতনের কথা জানিয়ে দীর্ঘক্ষণ কান্নাকাটি করেন। এরপর সন্ধ্যায় ইয়াছমিনের দেবর ফোন করে জানান যে ইয়াছমিন আর বেঁচে নেই।
স্বজনরা জানান, খবর পেয়ে তাঁরা ইয়াছমিনের স্বামীর বাড়িতে গিয়ে লাশ দেখতে পান। তবে সে সময় লাশের পাশে ইয়াছমিনের শাশুড়ি ছাড়া আর কাউকে দেখা যায়নি। স্বামী নুরু নবী ততক্ষণে পালিয়ে গেছেন। নিহতের মা নুর আয়েশা জানিয়েছেন, তাঁরা এ ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ নেবেন।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। লাশের গলায় কিছু দাগ পাওয়া গেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পেলে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
