পটিয়ায় ফরিদুল ও এয়াকুব দুজনেই মাঠে, ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী কে?


চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে ১০ দলীয় জোটের মনোনয়ন নিয়ে নাটকীয়তা যেন কাটছেই না। জোটের শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রার্থী এম এয়াকুব আলীর পর দিনশেষে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. ফরিদুল আলম। সোমবার দুপুরে এলডিপি প্রার্থীর পক্ষে তাঁর প্রতিনিধিরা এবং বিকেলে শেষ মুহূর্তে সশরীরে হাজির হয়ে জামায়াত প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছে এম এয়াকুব আলীর পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। রোববার বিকেলে সমমনা ৮ দলের সঙ্গে এলডিপির জোট দৃশ্যমান হওয়ার পর পটিয়া আসনে এলডিপিই মনোনয়ন পাচ্ছে—এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার দুপুরে এলডিপি নেতারা মনোনয়নপত্র জমা দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পটিয়া উপজেলা এলডিপির সভাপতি মনছুর আলম, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী, পটিয়া পৌরসভা এলডিপির সভাপতি গাজী আমির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা গণতান্ত্রিক যুবদলের সদস্য সচিব আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী এবং পৌরসভা গণতান্ত্রিক ছাত্রদলের সভাপতি রাকিব চৌধুরী।

ফরম জমা শেষে পটিয়া উপজেলা এলডিপির সভাপতি মনছুর আলম বলেন, পটিয়ার জনগণ বিগত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি। চট্টগ্রামের মানুষ কর্নেল (অব.) অলি আহমদের মহান মুক্তিযুদ্ধের অবদানের কথা সবসময় স্বীকার করে। যার কারণে পটিয়া আসনে এলডিপির ‘ছাতা’ প্রতীকে জনগণ বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

এদিকে দিনভর নানা জল্পনা-কল্পনা ও নাটকীয়তার পর মনোনয়নপত্র জমা ও প্রত্যাহারের শেষ দিন সোমবার বিকেল ৫টার ঠিক আগ মুহূর্তে মনোনয়নপত্র জমা দেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. ফরিদুল আলম। তিনি জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার হাতে এই ফরম তুলে দেন। দিনভর অনিশ্চয়তার পর শেষ বিকেলে তাঁর ফরম জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সাধারণ কর্মীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

ফরম জমা দেওয়ার সময় জামায়াত প্রার্থীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন থানা জামায়াতের আমীর ও সাবেক ছাত্রনেতা শাহজাহান মহিউদ্দীন, দক্ষিণ জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য আরিফুর রশিত এবং কালারপোল থানা জামায়াতের আমীর মাস্টার নাছির উদ্দীন।

জামায়াতের একটি সূত্র জানিয়েছে, সোমবার পর্যন্ত পটিয়া আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের একক প্রার্থী নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। কেন্দ্র থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় কৌশলগত কারণে তাঁরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। পরবর্তীতে জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসন থেকে মোট ১২ জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে সোমবার মোট ৯ জন প্রার্থী ফরম জমা দিয়েছেন। তাঁরা হলেন—বিএনপির এনামুল হক এনাম, জামায়াতে ইসলামীর ডা. ফরিদুল আলম, এলডিপির এম এয়াকুব আলী, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এয়ার মোহাম্মদ পেয়ারু, গণঅধিকার পরিষদের ডা. এদাদুল হাছান, ইনসানিয়াত বিপ্লবের আবু তালেব হেলালী, জাতীয় পার্টির ফরিদ উদ্দীন আহমদ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে শাখাওয়াত হোসেন হিরু ও সৈয়দ সাদাত আহমদ।