পটিয়ায় আলোচনায় বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ সাদাত


চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী এনামুল হক এনামের বিপরীতে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য সৈয়দ সাদাত আহমদ। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে তিনি প্রতিনিধির মাধ্যমে এই মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে সৈয়দ সাদাত আহমদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় বিএনপির কয়েকজন স্থানীয় নেতাও সশরীরে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

পটিয়া আসনে বিএনপি থেকে ধানের শীষের চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য এনামুল হক এনামকে। দলের এই সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য গাজী মুহাম্মদ শাহজাহান জুয়েল, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুদ্দিন সালাম মিঠু এবং চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি নেতা গাজী সিরাজ উল্লাহ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও শেষ পর্যন্ত তা জমা দেননি। তবে ব্যতিক্রম ঘটিয়ে ভোটের মাঠে থাকার ঘোষণা দিলেন সৈয়দ সাদাত আহমদ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পটিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব খোরশেদ আলম বলেন, দলের যাঁদের পদ-পদবি রয়েছে, তাঁদের কেউ দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। স্বতন্ত্র প্রতীকে যে কেউ নির্বাচন করতে পারেন, তবে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ নির্বাচনে অংশ নেবে না। তিনি দাবি করেন, যিনি স্বতন্ত্র প্রতীকে নির্বাচন করছেন তিনি বর্তমানে দলীয় পদধারী কেউ নন এবং দীর্ঘসময় দলীয় কর্মকাণ্ডের বাইরে ছিলেন।

এ ব্যাপারে মন্তব্য জানতে সাবেক কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সৈয়দ সাদাত আহমদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

নির্বাচনী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পটিয়া আসন থেকে মোট ১২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। সোমবার ছিল জমা ও প্রত্যাহারের শেষ দিন। শেষ দিনে মোট ৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। তাঁরা হলেন—বিএনপির এনামুল হক এনাম, জামায়াতে ইসলামীর ডা. ফরিদুল আলম, এলডিপির এম এয়াকুব আলী, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এয়ার মোহাম্মদ পেয়ারু, গণঅধিকার পরিষদের ডা. এদাদুল হাছান, ইনসানিয়াত বিপ্লবের আবু তালেব হেলালী, জাতীয় পার্টির ফরিদ উদ্দীন আহসান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী শাখাওয়াত হোসেন হিরু ও সৈয়দ সাদাত আহমদ।