
পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির ২৯৮ নম্বর সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে নির্বাচনী উত্তাপ ছড়িয়েছে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সমীকরণে। এই আসনে ধানের শীষের চূড়ান্ত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়ার বিপরীতে ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সমীরণ দেওয়ান। সোমবার মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময় পর্যন্ত এই দুইজনসহ মোট ১৫ জন প্রার্থী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে তাঁদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির প্রার্থী আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হতে পারলে খাগড়াছড়িকে একটি অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জেলা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি সকল সম্প্রদায়ের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং পর্যটন খাতে বিকাশের মাধ্যমে এই জেলাকে পর্যটন নগরীতে রূপান্তর করে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের আশ্বাস দেন তিনি।
তবে এই আসনে বিএনপির দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া সমীরণ দেওয়ান। তিনি ১৯৮৯ সালে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার পরিষদের (বর্তমানে পার্বত্য জেলা পরিষদ) নির্বাচনে নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন এবং ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনেও বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এবার দল থেকে মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনি স্বতন্ত্রভাবেই নির্বাচনের মাঠে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এদিকে এই আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মনজিলা সুলতানা ঝুমা মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এর আগে রোববার রাতে তিনি ফেসবুকে ঘোষণা দিয়েই সরে দাঁড়ানোর কথা জানান।
বিএনপির এই দুই নেতা ছাড়াও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট এয়াকুব আলী চৌধুরী, জাতীয় পার্টির (জিএম কাদের) মিথিলা রোয়াজা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. কাউসার আজিজী, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী ও সাবেক ব্যাংকার দীনময় রোয়াজা, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. নূর ইসলাম, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি থেকে গুইমারা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান উশ্যেপ্রু মারমা, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে মাওলানা আনোয়ার হোসাইন রিয়াজী এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল) থেকে মো. মোস্তফা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
দলীয় প্রার্থীদের বাইরে পাহাড়ি নেতাদের মধ্যেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমার হিড়িক পড়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন মহালছড়ি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সোনারতন চাকমা, দীঘিনালা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ধর্মজ্যোতি চাকমা, পাহাড়ি শরণার্থী কল্যাণ সমিতির সভাপতি সন্তোষিত চাকমা বকুল, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা এবং তরুণ সমাজকর্মী লাব্রিচাই মারমা।
