স্বতন্ত্র ও দলীয়—দুই পথেই গিয়াস কাদের, রাউজানে ধানের শীষ কার?


চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নাটকীয়তার মধ্যেই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন দলের দুই প্রভাবশালী নেতা। তাঁরা হলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান (পদ স্থগিত) গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক গোলাম আকবর খন্দকার। সোমবার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৃথকভাবে তাঁরা মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন গোলাম আকবর খন্দকার। এ সময় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর গোলাম আকবর খন্দকার সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁকে মনোনয়ন দিয়েছেন। তিনি নির্বাচিত হলে রাউজানে আর কোনো মায়ের বুক খালি হবে না এবং কোনো সন্ত্রাস হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমার হাতে রক্তের দাগ নেই। রাউজানকে চাঁদাবাজ ও দখলদারমুক্ত করাই আমার স্বপ্ন।

অন্যদিকে সোমবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের কাছে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেয় গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর প্রতিনিধিদল। তবে তারা বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলতে রাজি হয়নি। এছাড়া রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা পরান্টু চাকমার কাছে বাবার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেন গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে সাকের কাদের চৌধুরী।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে রাউজান উপজেলা সদরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, রাউজানের মানুষের সঙ্গে আমার রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও আত্মার সম্পর্ক। অতএব আমিই রাউজানে বিএনপি থেকে নির্বাচন করব। আপনারা সবাই এই বিশ্বাস রাখেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাউজান আসনে বিএনপি থেকে দুজনকেই মনোনয়নের চিঠি দেওয়া হয়েছে। গোলাম আকবর খন্দকার গত রোববার মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সই করা চিঠি পান। অন্যদিকে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীকেও ৪ ডিসেম্বর দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি স্বতন্ত্র হিসেবেও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

এ বিষয়ে জ্যেষ্ঠ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বশির আহমেদ স্বতন্ত্র হিসেবে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রাউজানে বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী কে—জানতে চাইলে তিনি বলেন, দলীয় মনোনয়নের বিষয়টি চূড়ান্ত হবে দলের মহাসচিবের তালিকা পাওয়ার পর। মহাসচিব নির্বাচন কমিশনকে যে চূড়ান্ত তালিকা দেবেন, সেখানে যাঁর নাম থাকবে, তিনিই দলীয় প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক পাবেন।

প্রসঙ্গত, রাউজানে এই দুই নেতার বিরোধ দীর্ঘদিনের। গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে এই বিরোধকে কেন্দ্র করে রাউজানে অন্তত ১৪টি খুনের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ছয়টি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ১৯৯৬ সালে এই আসনে জয়ী হলেও ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে চাচাতো ভাই আওয়ামী লীগের এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর কাছে হেরে যান। ২০১৮ সালে ঋণখেলাপির দায়ে তাঁর এবং তাঁর ছেলে সামির কাদের চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছিল।