
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় রান্নার গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডারে গ্যাসের বদলে পানি ভরে বিক্রির সময় হাতেনাতে ধরা পড়েছে একটি প্রতারক চক্রের সদস্য। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলার নলুয়া ইউনিয়নের মরফলা বাজারে স্থানীয় জনতা ওই ব্যক্তিকে আটক করে। এ ঘটনায় জড়িত মূল হোতারা পালিয়ে গেলেও জব্দ করা হয়েছে পানিভর্তি সিলিন্ডার বহনকারী একটি মিনি ট্রাক।
আটক ব্যক্তির নাম নুরুল আলম। তিনি ওই মিনি ট্রাকের চালক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে একটি মিনি ট্রাকে করে বসুন্ধরা ও টোটাল গ্যাসের নাম ব্যবহার করে প্রায় ৮৪টি এলপি গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে মরফলা বাজারে আসে একটি চক্র। তারা বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছে স্বাভাবিকের চেয়ে কম দামে সিলিন্ডার বিক্রির প্রস্তাব দেয়। দাম কম দেখে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সন্দেহ হয়। সন্দেহের ভিত্তিতে তাঁরা কয়েকটি সিলিন্ডার খুলে পরীক্ষা করেন। তখনই বেরিয়ে আসে ভয়ংকর প্রতারণার তথ্য। দেখা যায়, ১২ কেজি ওজনের গ্যাস সিলিন্ডারের ভেতরে প্রায় ৫ থেকে ৬ কেজি পর্যন্ত পানি ভরা রয়েছে।
গ্যাসের নামে পানি বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা চক্রটিকে আটকানোর চেষ্টা করেন। এ সময় চক্রের তিন সদস্য কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও মিনি ট্রাকের চালক নুরুল আলমকে আটক করে জনতা। পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডারে পানি ভরার গুজব শোনা যাচ্ছিল। তবে এবার হাতেনাতে প্রমাণ মিলল। এ ধরনের প্রতারণায় সাধারণ গ্রাহকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং এটি সরাসরি জননিরাপত্তার জন্যও হুমকি।
খবর পেয়ে মঙ্গলবার বিকেলে ঘটনাস্থলে ছুটে যান সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান। তিনি জব্দকৃত সিলিন্ডার ও ট্রাক পরিদর্শন করেন। এ বিষয়ে ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং প্রাথমিকভাবে প্রতারণার প্রমাণ পেয়েছি। সিলিন্ডারে গ্যাসের বদলে পানি ভরার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। এ বিষয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
