কৃষকের উদ্বৃত্ত ফসল কেন কারখানার কাঁচামাল হতে পারছে না?


[সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাত থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলার আয়ের স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু রপ্তানির গ্রাফ ১ বিলিয়ন ডলারের ঘরেই আটকে আছে। কেন কৃষকের উৎপাদিত ফসল কারখানার কাঁচামাল হতে পারছে না? কেন আন্তর্জাতিক সনদের অভাবে বিশ্ববাজার থেকে ফিরে আসছে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগযুক্ত পণ্য? অলস চিংড়ি কারখানা আর নীল অর্থনীতির অপার সম্ভাবনাই বা কতটুকু কাজে লাগছে? কাঁচামাল সংকট, প্যাকেজিং প্রযুক্তি, ল্যাব সমস্যা, অপ্রচলিত পণ্যের বাজার এবং নীতিমালার জট নিয়ে একুশে পত্রিকার পাঁচ পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের প্রথম পর্ব।]

গল্পটা চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কৃষক কবির আহমেদের খেত থেকে শুরু করা যাক। ভোর না হতেই তিনি শিশির ভেজা লাউ, শসা আর টমেটো তুলছেন। কয়েক বছর আগেও এই সবজি স্থানীয় হাটে বিক্রি হতো, আর দাম না পেলে পচে নষ্ট হতো। এখন চিত্রটা কিছুটা বদলেছে, খেত থেকে সবজি যাচ্ছে সংগ্রহ কেন্দ্রে, সেখান থেকে কারখানায়। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে, সব ঠিক আছে। কৃষকের মুখে হাসি, কারখানার চাকা ঘুরছে। কিন্তু এই আশাজাগানিয়া ছবির উল্টো পিঠেই আছে এক করুণ বাস্তবতা।

বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ১ কোটি টন আলু উৎপাদিত হয়। উদ্বৃত্ত থাকে লাখ লাখ টন। অথচ দেশের চিপস তৈরির কারখানাগুলো তাদের প্রয়োজনীয় ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রেড’ আলু পাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে তাদের বিদেশ থেকে আলুর স্টার্চ বা ফ্লেকস আমদানি করতে হচ্ছে। কৃষকের গোলায় যখন আলুর স্তূপ পচছে, তখন কারখানার মালিক ডলার খরচ করে কাঁচামাল আনছেন। এই যে অদ্ভুত এক বৈপরীত্য—উৎপাদন আছে কিন্তু জোগান নেই, চাহিদা আছে কিন্তু মান নেই—এটাই আজ বাংলাদেশের কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের সবচেয়ে বড় সংকট।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রোডম্যাপ বলছে, ২০৪১ সালের মধ্যে এই খাত থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। ২০২১-২২ অর্থবছরে যে রপ্তানি ছিল ১.১৬ বিলিয়ন ডলার, তা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কমে ৯৬ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। কেন এই পতন? এর গভীরে গেলে দেখা যায়, আমাদের মাঠের ফসলের সাথে কারখানার চাহিদার কোনো মিল নেই। আছে এক বিশাল শূন্যতা, যাকে পোশাকি ভাষায় বলা হচ্ছে ‘ভ্যালু চেইন ডিসকানেক্ট’ বা মূল্য সংযোজন শৃঙ্খলের বিচ্ছিন্নতা।

টেবিল পটেটো বনাম প্রসেসিং পটেটো: গোড়াতেই গলদ

চন্দনাইশের একজন সাধারণ কৃষক আব্দুস সবুরের সাথে কথা বললে তিনি গর্ব করে বলেন, “শঙ্খের চরের সবজির মানই আলাদা।” কিন্তু তিনি যেটা জানেন না, তা হলো তিনি যে আলু বা টমেটো ফলিয়েছেন তা ‘টেবিল পটেটো’ বা ভাতের সাথে খাওয়ার জন্য। চিপস বা ফ্রেঞ্চ ফ্রাই তৈরির জন্য দরকার বিশেষ জাতের আলু, যাতে পানির পরিমাণ কম আর সলিড বা কঠিন পদার্থ বেশি থাকে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ‘রোড ম্যাপ অন ফুড’-এর তথ্যমতে, দেশে আলুর উৎপাদন উদ্বৃত্ত হলেও প্রক্রিয়াজাতকরণের উপযোগী জাতের অভাব প্রকট। বিশেষ করে আলুতে ‘ব্রাউন রট’ নামের একধরণের ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগের উপস্থিতির কারণে রাশিয়া বা ইউরোপের মতো বড় বাজারগুলোতে আমরা আলু পাঠাতে পারছি না।

প্রাণ গ্রুপের পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল বলছিলেন, “আমরা যেসব খাদ্যপণ্য উৎপাদন করি, তার কাঁচামাল স্থানীয়ভাবে সংগ্রহের চেষ্টা করি। কিন্তু সব সময় মানসম্মত কাঁচামাল পাওয়া যায় না”। এটি শুধু প্রাণের সমস্যা নয়, দেশের প্রায় ২৫০টি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের সবারই এক দশা। কারখানার মালিকরা চাইছেন নির্দিষ্ট আকার ও মানের ফসল, আর কৃষক ফলাচ্ছেন গতানুগতিক পদ্ধতিতে। মাঝখানের এই গ্যাপটা পূরণ করার কেউ নেই।

কন্ট্রাক্ট ফার্মিং: কাগজে আছে, বাস্তবে নেই

এই সমস্যা সমাধানের জন্যই এসেছিল ‘কন্ট্রাক্ট ফার্মিং’ বা চুক্তিবদ্ধ চাষাবাদের ধারণা। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে এর চিত্র খুব একটা সুখকর নয়। কৃষি বিপণন আইন, ২০১৮-তে চুক্তিবদ্ধ চাষাবাদের কথা স্পষ্ট বলা আছে। আইনের ৪ ধারায় কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের কার্যাবলিতে চুক্তিবদ্ধ চাষাবাদ ও বাজার সংযোগের কথা বলা হয়েছে।

কিন্তু বাস্তবে কী ঘটছে? মিরসরাই বা ফটিকছড়ির কিছু এলাকায় এই পদ্ধতি কাজ করার চেষ্টা চললেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিশ্বাসের অভাব। কৃষক মনে করেন কোম্পানি ঠকাচ্ছে, আর কোম্পানি মনে করে কৃষক দাদন নিয়ে অন্য জায়গায় ফসল বিক্রি করে দিচ্ছে।

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার কৃষক বিলকিছ বেগম অবশ্য শোনালেন আশার কথা। তিনি একটি প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে এখন আর দাম নিয়ে চিন্তা করেন না। কোম্পানি আগেই দাম বলে দেয়। কিন্তু বিলকিছের মতো ভাগ্যবতী কৃষকের সংখ্যা নগণ্য। অধিকাংশ কৃষকই এখনো মধ্যস্বত্বভোগীদের দয়ার ওপর নির্ভরশীল। ফলে মাঠ থেকে কারখানায় পৌঁছাতে পৌঁছাতে হাতবদল হয় কয়েকবার, আর প্রতি হাতবদলে বাড়ে দাম, কমে মান।

‘ট্রেসিং’ বা শেকড় সন্ধানের সংকট

আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য পাঠাতে হলে ক্রেতা জানতে চায়—এই আমটি বা এই মরিচটি কোন কৃষকের খেত থেকে এসেছে? ওই খেতে কী সার বা কী কীটনাশক দেওয়া হয়েছিল? একেই বলা হয় ‘ট্রেসিবিলিটি’।

পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. ফজলুল কাদের এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি পয়েন্ট তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের জমিতে অনেক সময় এমন কীটনাশকের উপস্থিতি পাওয়া যায় যা আমদানিকারকরা গ্রহণ করেন না। এজন্য ‘ট্রেসিং’ পদ্ধতি দরকার। ট্রেসিং করা গেলে আমরা অনেকগুলো কৃষিপণ্যকে ‘ক্যাশ ক্রপ’ বা অর্থকরী ফসলে পরিণত করতে পারতাম”।

আমাদের দেশে জমিগুলো খণ্ড-বিখণ্ড। একজন রপ্তানিকারকের পক্ষে হাজার হাজার ক্ষুদ্র কৃষকের তথ্য রাখা কঠিন। ফলে যখনই ইউরোপ বা আমেরিকার ল্যাবে পরীক্ষায় কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ ধরা পড়ে, তখন পুরো চালান বাতিল হয়ে যায়। আকিজ বেকার্সের উপদেষ্টা অনুপ কুমার সাহা বলছিলেন, “দেশের ভোক্তাদের রুচি আর বিদেশের ভোক্তাদের মানদণ্ড এক নয়। ভিনদেশিরা আমাদের খাবারের সাথে পরিচিত নন, তাই মানের প্রশ্নে তারা কোনো ছাড় দেন না”।

৩০ শতাংশ অপচয়: টাকার অঙ্কে হাজার কোটি

কাঁচামাল সংকটের আরেকটা বড় কারণ হলো অপচয়। আমাদের দেশে পর্যাপ্ত হিমাগার বা কোল্ড স্টোরেজ নেই। যা আছে, তার অধিকাংশই শুধু আলু রাখার জন্য। টমেটো, আম বা শাকসবজি রাখার মতো বিশেষায়িত হিমাগার নেই বললেই চলে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা বলছে, উৎপাদিত ফল ও সবজির ৩০ শতাংশই কখনো ভোক্তার পাতে পৌঁছায় না, পচে যায় পথেই। এই পচে যাওয়া কেবল সবজি নয়, পচে যাচ্ছে আমাদের অর্থনীতিও। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস)-এর হিসাবটা শুনলে আঁতকে উঠতে হয়—এই অপচয়ের কারণে প্রতি বছর আমরা প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা ডাস্টবিনে ফেলছি। গত ৫০ বছরের খতিয়ান টানলে দেখা যায়, আমাদের এই লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দুই থেকে আড়াই লাখ কোটি টাকায়।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্পের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এটি গ্রামীণ উৎপাদনকে শহরের শিল্পের সঙ্গে যুক্ত করে। তবে অবকাঠামোগত দুর্বলতা এবং পরিবহনে অপচয়ের কারণে কৃষকের লাভের অংশ কমে যাচ্ছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।’

ইউএসএআইডি-এর একটি গাইডলাইন অনুযায়ী, ফসল তোলার পর সঠিক প্যাকেজিং না করার কারণেও প্রচুর ক্ষতি হয়। যেমন, প্লাস্টিকের বস্তায় সবজি ভরলে বাতাস চলাচল করতে পারে না, ফলে গরমে ভেতরেই পচন ধরে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ লুফুর রহমান বলেন, ‘প্যাকেজিং ও সংরক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে অপচয় কমিয়ে কৃষকের আয় বাড়ানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে সরকারকে পলিসি সাপোর্ট বা নীতিগত সহায়তা দিতে হবে।’

বাংলাদেশি ফুডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহফুজুর রহমান হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “উপযুক্ত ফুড এক্সপোর্টের হাজারো আইটেম আছে যা আমরা করতে পারছি না। কারণ, ‘অ্যাভেলেবিলিটি’ নেই। ভেন্ডররা অনেকেই এখন নেই। সাপ্লাই চেইনের পেছনের যে সাপোর্ট দরকার, তা অপ্রতুল”।

বাজারের অস্থিতিশীলতা: যখন ১ ডলারের খরচ ৩ ডলারে দাঁড়ায়

কাঁচামাল কারখানায় আনার খরচও আমাদের দেশে আকাশচুম্বী। বাংলাদেশ এগ্রো-প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক ইকতাদুল হক একটি চমকপ্রদ তুলনা টানলেন। তিনি বলেন, “ভারত থেকে পণ্যবোঝাই একটি কনটেইনার সৌদি আরবে পাঠাতে খরচ হয় ১২০০ থেকে ১৩০০ ডলার। আর বাংলাদেশ থেকে একই কনটেইনার পাঠাতে খরচ লাগে ৩০০০ থেকে ৩৫০০ ডলার”।

পরিবহন খরচের এই বিশাল পার্থক্যের কারণে আমাদের কাঁচামাল যখন প্রক্রিয়াজাত পণ্য হয়ে বিশ্ববাজারে যায়, তখন তা আর প্রতিযোগিতায় টিকতে পারে না। এর সাথে যুক্ত হয়েছে গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট। উদ্যোক্তা ও কৃষকরা বলছেন, তারা নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এ শিল্পকে টেনে নিচ্ছেন। এখনও কোনো কোনো এলাকায় দিনে ১০-১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ে এবং হিমাগারনির্ভর পণ্যগুলোর মান নষ্ট হয়ে যায়।

আইন আছে, প্রয়োগ নেই

কাঁচামালের এই বিশৃঙ্খলা রোধে ‘কৃষি বিপণন আইন, ২০১৮’ একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারত। এই আইনের ৬ ধারায় গুদাম ও হিমাগারের লাইসেন্স, এবং ১০ ধারায় মজুতকৃত পণ্যের সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার সুস্পষ্ট নির্দেশনা আছে। আইনে বলা আছে, লাইসেন্স ছাড়া কেউ রপ্তানিকারক বা আমদানিকারক হিসেবে কাজ করতে পারবে না।

কিন্তু মাঠ পর্যায়ে এই আইনের প্রয়োগ কতটা হচ্ছে? কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম মনে করেন, “কৃষি উৎপাদন বাড়লে প্রক্রিয়াজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়বে। এ জন্য উন্নত জাতের বীজ ও জমির উপযুক্ত ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে”। অর্থাৎ, আইন প্রয়োগের চেয়েও এখন বেশি জরুরি হয়ে পড়েছে গবেষণাগার থেকে উন্নত জাতের বীজ কৃষকের হাতে পৌঁছে দেওয়া।

উত্তরণের পথ: রোডম্যাপ কী বলছে?

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ‘রোড ম্যাপ অন ফুড’-এ ২০২৬ সালের মধ্যে এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কথা বলা হয়েছে। সেখানে স্পষ্ট বলা আছে, ২০২৪-২৫ সালের মধ্যে বিশ্ববাজারে ‘রেডি-টু-ইট’ খাবারের বাজার ২০৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। এই বিশাল বাজারে ঢুকতে হলে আমাদের কাঁচামালের সংকট কাটাতে হবে।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম সতর্ক করে দিয়েছেন, “এলডিসি উত্তরণের পর নগদ প্রণোদনা সুবিধা থাকবে না। তাই যারা এখন ভর্তুকির ওপর নির্ভর করে টিকে আছেন, তারা বড় ঝুঁকিতে পড়বেন”। তাঁর মতে, এখন থেকেই পণ্যের মান উন্নয়ন এবং প্রযুক্তির দিকে নজর দিতে হবে।

কৃষক কবির আহমেদের খেতের সবজি আর লন্ডনের সুপারশপের শেলফের মধ্যে দূরত্বটা কেবল মাইলের নয়, এটি মানের, আস্থার এবং ব্যবস্থাপনার দূরত্ব। আমাদের উর্বর মাটি আছে, পরিশ্রমী কৃষক আছে, সাহসী উদ্যোক্তাও আছে। নেই শুধু এই তিনের মধ্যে সঠিক সমন্বয়।

কাঁচামালের এই সংকট আসলে উৎপাদনের সংকট নয়, এটি ব্যবস্থাপনার সংকট। যতদিন না আমরা কৃষকের মাঠকে সরাসরি কারখানার ‘প্রোডাকশন ফ্লোর’-এর অংশ হিসেবে ভাবতে পারব, যতদিন না ‘কন্ট্রাক্ট ফার্মিং’ কেবল কাগজে কলমে না থেকে বাস্তবে রূপ নেবে, ততদিন হাজার কোটি টাকার ফসল মাঠেই পচবে, আর আমরা রপ্তানির গ্রাফে কেবল নিচের দিকেই নামতে থাকব। ২৫ বিলিয়ন ডলারের স্বপ্নপূরণ করতে হলে আগে আমাদের ঘরের ভিত, অর্থাৎ কাঁচামালের জোগান ঠিক করতে হবে। তা না হলে, ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগটি বিশ্ববাজারে কেবল প্রবাসী বাঙালিদের নস্টালজিয়া হয়েই বেঁচে থাকবে, মূলধারার ব্র্যান্ড হতে পারবে না।

দ্বিতীয় পর্ব: প্যাকেজিং-এর ভুলে হাতছাড়া বিলিয়ন ডলারের বাজার