প্যাকেজিং-এর ভুলে হাতছাড়া বিলিয়ন ডলারের বাজার


[সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাত থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলার আয়ের স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু রপ্তানির গ্রাফ ১ বিলিয়ন ডলারের ঘরেই আটকে আছে। কেন কৃষকের উৎপাদিত ফসল কারখানার কাঁচামাল হতে পারছে না? কেন আন্তর্জাতিক সনদের অভাবে বিশ্ববাজার থেকে ফিরে আসছে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগযুক্ত পণ্য? অলস চিংড়ি কারখানা আর নীল অর্থনীতির অপার সম্ভাবনাই বা কতটুকু কাজে লাগছে? কাঁচামাল সংকট, প্যাকেজিং প্রযুক্তি, ল্যাব সমস্যা, অপ্রচলিত পণ্যের বাজার এবং নীতিমালার জট নিয়ে একুশে পত্রিকার পাঁচ পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের দ্বিতীয় পর্ব।]

সন্ধ্যাবেলা লন্ডনের কোনো এক ব্যস্ত দম্পতি যখন কাজ শেষে বাড়ি ফেরেন, তাদের হাতে সময় থাকে না রান্না করার। তারা সুপারশপ থেকে এমন একটা প্যাকেট খোঁজেন, যেটা মাইক্রোওভেনে দিলেই গরম ধোঁয়া ওঠা খাবার তৈরি। একেই বলে ‘রেডি-টু-ইট’ বা খাওয়ার জন্য প্রস্তুত খাবার। বিশ্বজুড়ে এখন এই খাবারেরই রাজত্ব। ২০২৪-২৫ সালে এই ‘রেডি-টু-ইট’ খাবারের বিশ্ববাজার ২০৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।

অথচ এই বিশাল বাজারের দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশ কী করছে? আমাদের রপ্তানির ঝুড়িতে এখনো প্রধান পণ্য—বিস্কুট, চানাচুর, আর টোস্ট। হ্যাঁ, শুনতে অবাক লাগলেও সত্য। আমাদের মোট কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য রপ্তানির একটা বড় অংশই দখল করে আছে সাধারণ বিস্কুট (৮ কোটি ৮৫ লাখ ডলার), নুডলস (৩ কোটি ৮৬ লাখ ডলার) আর চানাচুর (২ কোটি ১৫ লাখ ডলার)। বিশ্ব যখন উচ্চ প্রযুক্তির ‘ফ্রোজেন মিল’ বা ‘সেলফ-হিটিং’ খাবারের দিকে ঝুঁকছে, আমরা তখনো নুন-তেল মাখা চানাচুরের প্যাকেট হাতে দাঁড়িয়ে আছি।

কেন আমরা মূলধারার ওই বিশাল বাজারে ঢুকতে পারছি না? সমস্যাটা রান্নার স্বাদে নয়, সমস্যাটা মোড়কে। আমাদের প্যাকেজিং প্রযুক্তি এখনো সেই আশি বা নব্বই দশকের পলিথিন যুগেই আটকে আছে। আর এই প্রযুক্তির অভাবেই আমাদের সুস্বাদু খাবারগুলো বিদেশের বন্দরে পৌঁছাতে পৌঁছাতে হয় গন্ধ হয়ে যাচ্ছে, নয়তো ফাঙ্গাস পড়ে নষ্ট হচ্ছে।

প্যাকেজিং: পলিথিনের বস্তা বনাম শ্বাস-প্রশ্বাসের বিজ্ঞান

সাধারণ মানুষের ধারণা, প্যাকেজিং মানেই হলো একটা চকচকে প্যাকেটে খাবার ভরা। কিন্তু রপ্তানি বাণিজ্যে প্যাকেজিং হলো রীতিমতো রকেট সায়েন্স। ইউএসএআইডি-এর কারিগরি নির্দেশিকা বলছে, গাছ থেকে তোলার পরেও ফল বা সবজি ‘শ্বাস-প্রশ্বাস’ নেয়। আপনি যদি একটা সাধারণ প্লাস্টিকের ব্যাগে কাঁচা মরিচ বা শিম ভরে মুখ আটকে দেন, তাহলে ভেতরে কার্বন ডাই-অক্সাইড জমে ওটা পচে যাবে। একে বাঁচাতে হলে দরকার এমন এক প্যাকেট, যার গা দিয়ে বাতাস চলাচল করতে পারে। এর পোশাকি নাম ‘পারফোরেটেড ফিল্ম’ বা ছিদ্রযুক্ত আবরণ।

আমাদের দেশের রপ্তানিকারকরা অনেক সময় খরচ বাঁচাতে সাধারণ পলিথিন বা নিম্নমানের প্লাস্টিক ব্যবহার করেন। ফলাফল? ক্রেতার হাতে পৌঁছানোর আগেই পণ্য বাতিল। অথচ বিশ্ববাজারে এখন চলছে ‘মডিফাইড অ্যাটমোস্ফিয়ার প্যাকেজিং’ বা এমএপি। এটি এমন এক প্রযুক্তি যেখানে প্যাকেটের ভেতর থেকে সাধারণ বাতাস বের করে দিয়ে নাইট্রোজেন বা কার্বন ডাই-অক্সাইডের একটা নির্দিষ্ট মিশ্রণ ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এতে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে না, খাবার থাকে মাসের পর মাস তাজা।

উদ্যোক্তাদের আক্ষেপ আর হতাশা

দেশের অন্যতম শীর্ষ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান প্রাণ গ্রুপের পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল বলছিলেন, “আমরা বর্তমানে ১৪৮টি দেশে পণ্য পাঠাই। কিন্তু এলডিসি উত্তরণের পর নগদ প্রণোদনা বন্ধ হয়ে গেলে টিকে থাকতে হলে প্রযুক্তির উন্নয়ন ছাড়া উপায় নেই”।

তার এই কথার পিঠেই আসে বাপা-এর সাধারণ সম্পাদক ইকতাদুল হকের বক্তব্য। তিনি বলেন, “চিপস-চানাচুর-বিস্কুট রপ্তানি করে আর কত আয় করা যায়? আমাদের এখন উচ্চমূল্যের পণ্যের দিকে যেতে হবে। কিন্তু গ্যাস-বিদ্যুতের দাম আর অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয়ের কারণে আমরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছি”।

উদ্যোক্তারা চাইছেন আধুনিক মেশিন আনতে, উন্নত ফয়েল প্যাক বা ক্যানিং প্রযুক্তি ব্যবহার করতে। কিন্তু সেই মেশিন আমদানিতে শুল্কের খড়গ, আর বন্দরে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য তাদের হাত-পা বেঁধে রেখেছে।

তবে আশার কথা বলছে, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। সংস্থাটির পরিচালক আবু মোখলেছ আলমগীর হোসেন জানালেন আগামীর প্রস্তুতির কথা। তিনি বলছেন, এখন আর শুধু প্রণোদনার দিকে তাকিয়ে থাকার সুযোগ নেই, নজর দিতে হবে কাঠামোগত সংস্কারে। কারখানার চাকা সচল রাখতে ইউটিলিটি বিল কমানো, কর কাঠামোর সংস্কার এবং পণ্যের মান বাড়াতে গবেষণার ওপর জোর দিচ্ছে ইপিবি। বিশেষ করে পচনশীল পণ্য রক্ষায় ‘কুল চেইন ভ্যান’ বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবহন এবং কার্গো সুবিধা বাড়ানোর মতো বিষয়গুলো এখন তাদের অগ্রাধিকার তালিকায়। অর্থাৎ, রপ্তানিকারকের হাতে সরাসরি মাছ তুলে দেওয়ার বদলে মাছ ধরার আধুনিক জাল তুলে দেওয়ার পরিকল্পনাই এখন সরকারের টেবিলে।

হাজার কোটি টাকার অপচয় কেন হয়?

জাতিসংঘের তথ্যমতে, মাঠ থেকে বাজারে আসার পথেই ৩০ শতাংশ ফল ও সবজি নষ্ট হয়ে যায়। বিআইডিএস-এর পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে এক নিদারুণ বাস্তবতা—এই অপচয়ের আর্থিক মূল্য বছরে ৫ হাজার কোটি টাকা। স্বাধীনতার পর থেকে গত সুবর্ণজয়ন্তীতে আমরা সব মিলিয়ে হারিয়েছি প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকার সম্পদ। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের হর্টিকালচার বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামরুল হাসান বলেন, ‘আমাদের কৃষকরা জানে না কীভাবে ফল বা সবজি তুললে তা দীর্ঘসময় ভালো থাকে। আর মধ্যস্বত্বভোগীরা পরিবহনের সময় গাদাগাদি করে পণ্য নেয়, যা অপচয়ের অন্যতম কারণ। সঠিক প্যাকেজিং প্রযুক্তি ব্যবহার করলে এই ক্ষতি অর্ধেকে নামিয়ে আনা সম্ভব।’

ভাবুন তো, একজন কৃষক চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় যে লটকন বা লেবু ফলান, তা যদি সঠিক ফোম স্লিভ বা জালের ব্যাগে ভরে ঢাকায় আনা যেত, তবে তার গায়ে দাগ পড়ত না। ইউএসএআইডি-এর গাইডলাইন বলছে, ফোম স্লিভ ফলের গায়ে নরম আবরণের মতো কাজ করে, ফলে পরিবহনের সময় ঝাঁকুনিতে ফল থেঁতলে যায় না। কিন্তু আমাদের দেশে এখনো বাঁশের ঝুড়িতে গাদাগাদি করে ফল আনা হয়। ফলে নিচে থাকা ফলগুলো পিষে রস বের হয়ে যায়, আর ওপরে থাকা ফলগুলো ধুলোয় ধূসরিত হয়।

ভ্যাকুয়াম প্যাকেজিং: এক জাদুকরী সমাধান

ফ্রোজেন ফুড বা হিমায়িত খাবারের ক্ষেত্রে ‘ভ্যাকুয়াম প্যাকেজিং’ বা বাতাসশূন্য মোড়ক এক জাদুকরী সমাধান। এই পদ্ধতিতে প্যাকেটের সব বাতাস শুষে নেওয়া হয়, ফলে অক্সিজেন না থাকায় জীবাণু বাঁচতে পারে না। মাছ, মাংস বা প্রক্রিয়াজাত সবজির জন্য এটি আদর্শ।

আমাদের দেশে ইলিশ বা চিংড়ি রপ্তানিতে এই প্রযুক্তি কিছুটা ব্যবহার হলেও, সবজি বা ফলের ক্ষেত্রে এর ব্যবহার নগণ্য। অথচ ইউরোপের বাজারে ‘রেডি-টু-কুক’ সবজি (কাটা ও ধোয়া সবজি) ভ্যাকুয়াম প্যাকেটে বিক্রি হয় চড়া দামে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএফইএ) সহ-সভাপতি এস হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা যদি সবজি বা ফলকে প্রসেস করে ভ্যাকুয়াম প্যাক করতে পারতাম, তবে রপ্তানি আয় কয়েকগুণ বেড়ে যেত। কিন্তু এর জন্য যে আধুনিক মেশিনারিজ ও কোল্ড চেইন দরকার, তা অধিকাংশ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার নেই।’

প্লাস্টিক ও আন্তর্জাতিক আইন

ইউরোপ বা আমেরিকায় পণ্য পাঠাতে হলে শুধু প্যাকেট সুন্দর হলেই চলে না, সেই প্যাকেটটি কী দিয়ে তৈরি, তাও তারা অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা করে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রবিধান (ইইউ ১০/২০১১) অনুযায়ী, খাদ্যের সংস্পর্শে আসা প্লাস্টিকের উপাদানগুলো যেন কোনোভাবেই খাবারের মধ্যে রাসায়নিক ছড়িয়ে না দেয়, তা নিশ্চিত করতে হয়।

আমাদের অনেক ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তা জানেনই না যে, রিসাইকেল করা প্লাস্টিক বা নিম্নমানের কালিতে ছাপানো প্যাকেট ব্যবহার করলে তাতে থাকা বিষাক্ত পদার্থ খাবারে মিশে যেতে পারে। এই অজ্ঞতার কারণে কত কন্টেইনার পণ্য যে বিদেশের পোর্টে গিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে, তার ইয়ত্তা নেই। সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম ঠিকই বলেছেন, “আমরা এখনো মূলধারার বাজার বিশেষত উন্নত বিশ্বের দরজা পুরোপুরি খুলতে পারিনি। আন্তর্জাতিক মান ও সার্টিফিকেশনের অভাবেই এটা হচ্ছে”।

বিস্কুট-চানাচুরের ফাঁদে আটকা অর্থনীতি

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, বাংলাদেশ বর্তমানে ৬৩টি মৌলিক কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্যসহ ৭০০টিরও বেশি পণ্য রপ্তানি করে। সংখ্যাটা শুনতে বিশাল মনে হলেও, আয়ের দিকে তাকালে হতাশা জাগে। মোট রপ্তানির ৬০ শতাংশই আসে মাত্র ৫টি দেশ থেকে—সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ভারত, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র।

খেয়াল করলে দেখবেন, এই দেশগুলোতে প্রচুর প্রবাসী বাঙালি থাকেন। অর্থাৎ, আমাদের ‘প্রাণ’ বা ‘স্কয়ার’-এর পণ্যগুলো মূলত খাচ্ছেন বিদেশে থাকা আমাদেরই ভাই-বোনেরা। বিদেশের স্থানীয়রা বা শেতাঙ্গরা এখনো আমাদের পণ্যের প্রতি সেভাবে আকৃষ্ট হননি। কারণ একটাই—আমাদের পণ্যের ‘প্রেজেন্টেশন’ বা উপস্থাপন এবং প্যাকেজিং তাদের আস্থার জায়গায় পৌঁছাতে পারেনি।

আকিজ বেকার্সের উপদেষ্টা অনুপ কুমার সাহা অকপটে স্বীকার করেছেন, “ভিন দেশিদের অধিকাংশই আমাদের এসব খাদ্যের সঙ্গে পরিচিত নন। আমাদের পণ্যগুলো মূলত প্রবাসী ভোক্তাকেন্দ্রিক”। এই বৃত্ত ভাঙতে হলে আমাদের ‘এথনিক মার্কেট’ বা বাঙালি বাজারের বাইরে বের হয়ে ‘মেইনস্ট্রিম’ বা মূলধারার বাজারে ঢুকতে হবে। আর তার চাবিকাঠি হলো আধুনিক, স্মার্ট এবং পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং।

পরিবেশবান্ধব মোড়ক: সময়ের দাবি

বিশ্ব এখন প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ে সোচ্চার। ইউরোপের দেশগুলো তো রীতিমতো আইন করে ‘সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক’ নিষিদ্ধ করেছে। এই অবস্থায় আমাদের পাটের তৈরি প্যাকেজিং বা ‘জুট রিইনফোর্সড প্লাস্টিক’ হতে পারে গেম চেঞ্জার। পাটের আঁশ আর পলিমারের মিশ্রণে তৈরি এই মোড়ক যেমন শক্ত, তেমনি পরিবেশবান্ধব।

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমাদের দেশে এই প্রযুক্তির বাণিজ্যিক ব্যবহার এখনো সেভাবে শুরু হয়নি। বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) সাবেক বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা ড. মো. মোবারক আহমদ খান বলেন, ‘সোনালী ব্যাগ বা পাটের পলিমার বিশ্ববাজারে প্লাস্টিকের বিকল্প হতে পারে। কিন্তু এর বাণিজ্যিক উৎপাদনের জন্য যে বড় বিনিয়োগ দরকার, তা এখনো আমরা পাইনি। অথচ এটি হতে পারত আমাদের রপ্তানির অন্যতম বড় হাতিয়ার।’

রোডম্যাপ ও বাস্তবতা

সরকারের রোডম্যাপে বলা হয়েছে, ২০৪১ সালের মধ্যে এই খাত থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলার আয় হবে। কিন্তু বর্তমানে আমরা আটকে আছি ১ বিলিয়ন ডলারের নিচে। রোডম্যাপে ‘কৃষি-খাদ্য প্রযুক্তি পার্ক’ বা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখছি, উদ্যোক্তারা ঋণের উচ্চ সুদ আর কাঁচামাল আমদানির এলসি খুলতে গিয়েই হিমশিম খাচ্ছেন।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এখন আর গতানুগতিক চিন্তায় কাজ হবে না। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম পরামর্শ দিয়েছেন, “উদ্যোক্তাদের প্রক্রিয়াজাত পণ্যে ভ্যালু অ্যাড করে বৈচিত্র্য আনতে হবে। নতুন বাজার খুঁজতে হবে”।

তিনি বলেন, আমরা যদি এখনো মনে করি যে, পলিথিনে মোড়ানো মুড়ি আর টিনের কৌটায় ভরা বিস্কুট দিয়েই বিশ্বজয় করব, তবে আমরা বোকার স্বর্গে বাস করছি। ‘রেডি-টু-ইট’ খাবারের বিশাল বাজার আমাদের হাতছানি দিচ্ছে। আমাদের দরকার শুধু একটু দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন।

ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্যাকেজিংকে খরচের খাত হিসেবে না দেখে, একে বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে হবে। সরকারকে বুঝতে হবে, মেশিনারিজ আমদানিতে শুল্ক ছাড় দিলে সাময়িক রাজস্ব কমলেও, রপ্তানি বাড়লে দেশের আয় বাড়বে বহুগুণ। কৃষক, বিজ্ঞানী আর শিল্পপতির মধ্যে একটা সেতু তৈরি করতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যতদিন না আমাদের প্যাকেজিং প্রযুক্তি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হচ্ছে, ততদিন আমাদের সুস্বাদু খাবারগুলো বিশ্ববাজারের সুপারশপে জায়গা পাবে না, পড়ে থাকবে কোনো এক কোণায় ‘এথনিক ফুড’-এর তাকে। আর আমরা হারাতে থাকব হাজার হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা। সময় এসেছে মুড়ি-চানাচুরের বৃত্ত ভেঙে বেরিয়ে আসার, সময় এসেছে বিশ্বকে আমাদের আসল স্বাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার—স্মার্ট, নিরাপদ এবং আধুনিক মোড়কে।

তৃতীয় পর্ব: আস্থার সংকটে ডুবছে হাজার কোটি টাকার রপ্তানি