রাঙ্গুনিয়ায় অগ্নিকাণ্ডের হিড়িক: আজ পুড়ল ৫ ঘর, এক সপ্তাহে ঝরল ২ প্রাণ


চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় গত এক সপ্তাহ ধরে প্রায় প্রতিদিনই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। কখনো বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট, আবার কখনো গ্যাসের চুলার আগুনে পুড়ছে বসতভিটা। এই ধারাবাহিকতায় এবার উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নে আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে পাঁচটি পরিবারের স্বপ্ন। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) ভোররাতে বেতাগী ইউনিয়নের মধ্যম বেতাগী মাইজপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার ভোররাতে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে মুহূর্তের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। কিন্তু ততক্ষণে মৃত হাসমত আলীর পাঁচ ছেলে—মো. আবু তাহের, আবু মোহাম্মদ, মো. ইব্রাহিম, মো. ইসমাঈল ও মো. ইসরাঈলের বসতঘর পুড়ে যায়।

ভুক্তভোগী আবু তাহেরের ছেলে তানভীর আহমেদ জানান, রাত আনুমানিক ২টা ৪০ মিনিটের দিকে রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনে তাঁর বাবা ও চার চাচার পরিবারের আসবাবপত্র, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ সবকিছু পুড়ে গেছে। এতে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খোরশেদতালুক এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে দুটি দোকান ও একটি কাঁচা বসতঘর পুড়ে যায়। ওই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হন মৃত আবদুল মালেকের ছেলে মো. আলমগীর এবং মৃত ওসমান আলীর ছেলে মো. আবদুল মোনাফ।

তার আগের দিন সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) ভোররাত ৩টা ৩৮ মিনিটের দিকে উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের পশ্চিম পালপাড়া এলাকায় আরেকটি অগ্নিকাণ্ডে রাজেশ পালের মালিকানাধীন তিন কক্ষবিশিষ্ট একটি কাঁচা বসতঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। রাজেশ পাল রতন পালের ছেলে। এই ঘটনায় প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে জানান রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন টিম লিডার মো. জাহেদুর রহমান।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) ভোরে উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের কাদিরিয়া পাড়া গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে দাদি ও নাতনির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় অন্তত ছয়টি বসতঘর পুড়ে গিয়েছিল। এছাড়া একদিন আগে বেতাগীতে এক সিএনজি চালকের ঘরও আগুনে পুড়ে যায়।

রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন টিম লিডার মো. জাহেদুর রহমান বলেন, শীতকালে বিদ্যুৎ ব্যবহার কম থাকায় ভোল্টেজের ওঠানামা হয়। এছাড়া অনেক ঘরে পুরোনো বৈদ্যুতিক তার ও সরঞ্জাম ব্যবহারের কারণে শর্ট সার্কিটের ঘটনা বাড়ছে। পাশাপাশি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারে অসাবধানতাও অগ্নিকাণ্ডের অন্যতম কারণ। তিনি সবাইকে বিদ্যুৎ ও গ্যাস ব্যবহারে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।