আপনাদের সহমর্মিতা আমাদের হৃদয় স্পর্শ করেছে: তারেক রহমান


সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন কার্যক্রম রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যমকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তারেক রহমান তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, গভীর শোকের এই সময়ে আপনারা যে সহমর্মিতা, সম্মান এবং দায়িত্ববোধ দেখিয়েছেন, তা আমাদের হৃদয় স্পর্শ করেছে। তিনি লেখেন, গতকাল আমার জীবনের এক গভীর শোকের মুহূর্তে আমি আমার মায়ের শেষ বিদায় দিতে পেরেছি। এটি এমন এক ঐতিহাসিক বিদায়, যা দেশের মানুষের জন্য যথাযথ শ্রদ্ধা ও মর্যাদার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। আর সেটি সম্ভব হয়েছে যাঁদের যত্ন, দায়িত্ববোধ ও পেশাদারিত্বের কারণে; তাঁদের সবাইকে আমি অন্তরের গভীর থেকে ধন্যবাদ জানাই।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনেত্রীর অন্তিম যাত্রায় অবিরত দায়িত্ব পালনের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যদের বিশেষ ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, আপনারা শুধু শৃঙ্খলা বজায় রাখেননি, শোকময় পরিবেশেও মানবিকতার উদাহরণ দেখিয়েছেন। আপনারা আমাদের সবাইকে নিরাপদে রেখেছেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে জানাজায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়েছেন।

নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীর সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি লেখেন, মাননীয় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি, র‍্যাব এবং এপিবিএনসহ সকল নারী ও পুরুষ সদস্যদের আমি ধন্যবাদ জানাই। আপনাদের ধৈর্য, সততা ও দায়িত্ববোধের কারণে লাখো মানুষ নিরাপদে একত্রিত হতে পেরেছে, স্বতঃস্ফূর্তভাবে শোক প্রকাশ ও শ্রদ্ধা জানাতে পেরেছে এবং শান্তিপূর্ণভাবে ফিরে যেতে পেরেছে। এছাড়া ডিজিএফআই, এনএসআই এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের নিবেদিত সদস্যদের সতর্কতার কারণে দিনটি নিরাপদ ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তারেক রহমান তাঁর বার্তায় মাননীয় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের পিএসও, ডিজি এসএসএফ এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত, তথ্য ও সম্প্রচার, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক, সংস্কৃতি ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়সমূহের মাননীয় উপদেষ্টা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, আপনাদের সমন্বয় এবং উপস্থিতির মাধ্যমে আমরা শান্তিতে শোক প্রকাশ ও শ্রদ্ধা জানাতে পেরেছি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁদের আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণে বিদেশি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা সরাসরি উপস্থিত হয়ে সমবেদনা জানাতে পেরেছেন, যা প্রমাণ করে দেশের সীমানার বাইরে থেকেও আমার মায়ের প্রতি গভীর সম্মান ছিল।

প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও সংবাদ প্রচার করায় গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তারেক রহমান লেখেন, কয়েক বর্গকিলোমিটারজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিশাল জনসমুদ্রের মধ্যে এই অনুষ্ঠান কভার করা সাংবাদিকদের জন্য খুবই কঠিন ছিল। এত প্রতিকূলতার মধ্যেও দেশ-বিদেশের মিডিয়াকর্মীরা আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে জানাজার নামাজ ও দাফনের খবর, ছবি ও ভিডিও সারা বিশ্বে পৌঁছে দিয়েছেন।

সবশেষে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আমি মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সকল সদস্যকেও অন্তরের গভীর থেকে ধন্যবাদ জানাই। জাতীয় শোকের এই কঠিন সময়ে তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থেকে প্রতিটি মুহূর্তে শান্তি ও যত্ন বজায় রাখতে সাহায্য করেছেন, যা আমাদের পরিবারের জন্য অমূল্য সমর্থন হিসেবে অনুভূত হয়েছে।

তিনি তাঁর বার্তার শেষাংশে বলেন, আমার পরিবারের পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবে। আপনারা ছিলেন সেই শক্তি, যার কারণে আমাদের পরিবার এবং পুরো জাতি মর্যাদার সঙ্গে আমার মায়ের স্মৃতিকে সম্মান জানাতে পেরেছে, আলহামদুলিল্লাহ।