
সাংবাদিকতা কেবল সংবাদ পরিবেশন নয়, এটি সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার। লেখনীর মাধ্যমে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা আনা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং সাধারণ মানুষের জীবনের ঝুঁকি কমানোর মতো কাজে ডিসেম্বর মাসে একুশে পত্রিকার সাংবাদিকরা অনন্য নজির স্থাপন করেছেন।
এই মাসে প্রশাসনিক দুর্নীতি রোধ এবং ৪০০ জেলে পরিবারের জীবিকা রক্ষায় অসামান্য ভূমিকা রাখায় ‘সেরা ইমপ্যাক্ট জার্নালিস্ট’ নির্বাচিত হয়েছেন কক্সবাজারের চকরিয়া প্রতিনিধি এম. জিয়াবুল হক।
একইসাথে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণ বন্ধ এবং হাটহাজারীতে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এস এম আক্কাছ ও মো. আলাউদ্দীন প্রশংসিত হয়েছেন।
একুশে পত্রিকার ইমপ্যাক্ট অ্যানালাইসিস টিমের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে পরিবর্তনের এসব চিত্র।
চকরিয়ায় দুর্নীতি ও দখলের বিরুদ্ধে জিয়াবুল হকের জয়
চকরিয়ায় সার ডিলার নিয়োগ ও বদলিকে কেন্দ্র করে টাকার বিনিময়ে অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ করেন এম. জিয়াবুল হক। তাঁর প্রতিবেদন “সার ডিলার বদলির নামে টাকার খেলা” প্রকাশের পর জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে সেই অবৈধ বদলি প্রক্রিয়া স্থগিত করেন।
অন্যদিকে, মাতামুহুরী নদী দখল করে মাছের ঘের তৈরি করায় বিপাকে পড়া ৪০০ জেলে পরিবারের পাশে দাঁড়ান এম. জিয়াবুল হক। তার সচিত্র প্রতিবেদনের পর প্রশাসন নদীটি দখলমুক্ত করে। নীতিগত পরিবর্তন ও জনস্বার্থে সরাসরি অবদানের জন্য তাঁকে গত ডিসেম্বর মাসের সেরা নির্বাচিত করা হয়েছে।
ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীতে ‘জীবন রক্ষাকারী’ সাংবাদিকতা
জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এই মাসে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি প্রতিনিধি এস এম আক্কাছ। নাজিরহাট পৌরসভায় অনুমোদন ছাড়াই দুর্বল ভিত্তির ওপর ঝুঁকিপূর্ণ ৫ তলা ভবন নির্মাণের সংবাদ প্রকাশ করেন তিনি। ভূমিকম্প বা সামান্য আঘাতেই ভবনটি ধসে বড় প্রাণহানির শঙ্কা ছিল। তাঁর সংবাদের পর প্রশাসন দ্রুত অভিযান চালিয়ে সেই মৃত্যুফাঁদ তৈরির কাজ বন্ধ করে দেয়।
অন্যদিকে, হাটহাজারী প্রতিনিধি মো. আলাউদ্দীন ব্যস্ততম মহাসড়ক থেকে বিপজ্জনক নির্মাণ সামগ্রী সরাতে প্রশাসনকে বাধ্য করেন। অতীতে একই স্থানে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির নজির থাকায়, তাঁর এই রিপোর্টটি ছিল আক্ষরিক অর্থেই জীবন রক্ষাকারী। এছাড়া বিজয় দিবসের রাতে জাতীয় পতাকার অবমাননা রোধেও তার সংবাদ তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে।
রাজনৈতিক জবাবদিহিতায় বাঁশখালী
তালিকায় বিশেষ স্থান করে নিয়েছেন চট্টগ্রামের বাঁশখালী প্রতিনিধি মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন। তাঁর সংবাদের জেরে এনসিপি প্রার্থী ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন— যা রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
সম্পাদকীয় পর্যবেক্ষণ
একুশে পত্রিকা বিশ্বাস করে, একটি সংবাদ তখনই সার্থক হয় যখন তা মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে। ডিসেম্বর মাসে আমাদের সহকর্মীরা প্রমাণ করেছেন যে, সচেতন সাংবাদিকতা কেবল দুর্নীতিই থামায় না, বরং ঝুঁকিপূর্ণ ভবন বা সড়ক থেকে মানুষকে নিরাপদ রাখতেও পাহারাদারের ভূমিকা পালন করে।
বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী সকল সাংবাদিককে একুশে পত্রিকা পরিবারের পক্ষ থেকে অভিনন্দন।
