
বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত ছড়াকার ও একুশে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব সুকুমার বড়ুয়া আর নেই। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার জে. কে. মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সুকুমার বড়ুয়া দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন এবং স্ত্রীসহ গ্রামের বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি হলে দ্রুত তাঁকে স্থানীয় জে. কে. মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকালে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান।
সুকুমার বড়ুয়া চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার মধ্যম বিনাজুরি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, তিন মেয়ে এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে বাংলা সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ছড়া সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য সুকুমার বড়ুয়াকে ‘ছড়াসম্রাট’ বা ‘ছড়ার জাদুকর’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। ভাষা ও সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার তাঁকে ২০১৭ সালে একুশে পদকে ভূষিত করে। এছাড়াও তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, শিশু একাডেমি পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননা অর্জন করেছেন।
তাঁর লেখা জনপ্রিয় ও উল্লেখযোগ্য ছড়াগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘পাগলা ঘোড়া’, ‘ভিজে বেড়াল’, ‘কিছু না কিছু’, ‘এমন যদি হতো’, ‘মুক্তি সেনা’, ‘ঠিক আছে’ এবং ‘আনিকা ও শারিকা’। তাঁর ছড়ায় সমাজবাস্তবতা, রসবোধ এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ সাবলীলভাবে ফুটে উঠেছে, যা তাঁকে পাঠক হৃদয়ে চিরস্মরণীয় করে রাখবে।
