
বিক্ষোভ ও উত্তেজনার মধ্যে চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর মনোনয়নের প্রস্তাবক মো. সালাউদ্দিনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও হট্টগোলের মধ্যে এই ঘটনা ঘটে।
এর আগে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. জিয়া উদ্দিন যাচাই-বাছাই শেষে আনিসুল ইসলাম মাহমুদের প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করেন। বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (সাধারণ) মো. হেদায়েত উল্লাহ প্রার্থিতা বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে ঠিক কোন কারণে তাঁর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম-৫ আসনের শুনানি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তার আগে থেকেই বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সামনে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে শতাধিক শিক্ষার্থী সেখানে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তাঁরা ‘আনিসুলের মনোনয়নপত্র বাতিল করো, করতে হবে’, ‘স্বৈরাচারের দোসর আনিসুল, বাতিল চাই’—এমন নানা স্লোগান দিতে থাকেন।
একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা আনিসুল ইসলাম মাহমুদের প্রস্তাবক মো. সালাউদ্দিনকে ধাওয়া দেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ সালাউদ্দিনকে আটক করে বিক্ষুব্ধ জনতার রোষানল থেকে সরিয়ে নেয়। পরে কোতোয়ালি থানার একটি দল তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে নিয়ে যায়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি তকিবুল হাসান চৌধুরী তকি অভিযোগ করে বলেন, বিগত সময়ে শেখ হাসিনার অধীনে অনুষ্ঠিত রাতের ভোট ও ডামি নির্বাচনগুলোতে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে এমপি হয়েছেন। নামে জাতীয় পার্টির নেতা হলেও তিনি মূলত আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে হাটহাজারীতে বিরোধীমতের ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালানো হয়েছে।
তকিবুল হাসান চৌধুরী আরও বলেন, আনিসুল ইসলাম আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করিয়ে জেলে আটকে রেখেছিলেন। এবারের নির্বাচনে তিনি আবারও প্রার্থী হচ্ছেন শুনে ক্ষুব্ধ জনতা বিক্ষোভ করেছে। একপর্যায়ে তাঁর প্রস্তাবক ও সমর্থককে আটক করা হয়। আনিসুল ইসলাম মাহমুদসহ তাঁর প্রস্তাবক ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে বলেও দাবি করেন ছাত্রদলের এই নেতা।
