
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ৮ জনের মনোনয়ন বৈধ এবং একজনের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। একই জোটে থাকা একাধিক দলের প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হওয়ায় ভোটের মাঠে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এই তথ্য জানান চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
যাচাই-বাছাই শেষে যাদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে তাঁরা হলেন—জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ লেয়াকত আলী, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) অ্যাডভোকেট কফিল উদ্দিন, নেজামে ইসলাম পার্টির মুসা বিন ইজহার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ মাওলানা রুহুল্লাহ তালুকদার, সুন্নি ঐক্যজোটের মাওলানা আব্দুল মালেক আশরাফী এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগের এহসানুল হক।
অন্যদিকে সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরের নেতৃত্বাধীন গণঅধিকার পরিষদের মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আরিফুল হক তায়েফের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট আরিফুল হক তায়েফ জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত স্বাক্ষরের মধ্যে কয়েকটি স্বাক্ষর কম হওয়ায় তাঁর মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আয়কর সংক্রান্ত জটিলতার কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ লেয়াকত আলীর মনোনয়নপত্র প্রথমে স্থগিত রাখা হয়। পরে বিকেল ৪টার দিকে পুনরায় যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম মিঞা লেয়াকত আলীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেয়াকত আলী বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন করার কারণে বিগত সময়ে এনবিআরসহ সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান আমার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ২০২৩ সাল থেকে আজ পর্যন্ত আমাকে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি, যা তারা স্বীকারও করেছে। এরপরও বিকেল ৪টা পর্যন্ত আমার প্রার্থিতা স্থগিত রাখাটা বোধগম্য নয়।
এদিকে সমমনা ইসলামি জোট তথা ১০ দলীয় জোটের তিন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হওয়ায় বাঁশখালীর ভোটের মাঠে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আসনটি জামায়াতে ইসলামীর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এখানে জোটের একক প্রার্থী হিসেবে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের জয়েন্ট সেক্রেটারি মাওলানা জহিরুল ইসলামের নাম জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে। কিন্তু একই জোটের শরিক ইসলামী আন্দোলনের হাফেজ মাওলানা রুহুল্লাহ তালুকদার এবং নেজামে ইসলাম পার্টির মুসা বিন ইজহারও এখন মাঠে সক্রিয়।
বিশেষ করে মুসা বিন ইজহার লালখান বাজার মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও নেজামে ইসলাম পার্টির চেয়ারম্যান মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরীর ছেলে এবং তাঁর বাড়ি বাঁশখালীর বৈলছড়ি ইউনিয়নে হওয়ায় প্রার্থিতার দৌড়ে তিনিও শক্ত অবস্থানে আছেন। ফলে আসনটি শেষ পর্যন্ত জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন নাকি নেজামে ইসলাম পার্টির ভাগে জুটবে, তা নিয়ে সাধারণ ভোটার ও নেতাকর্মীদের মধ্যে জল্পনা-কল্পনা চলছে। তবে তিন প্রার্থীই জানিয়েছেন, জোটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যা হবে, তা তাঁরা মেনে নেবেন।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা দেবাশীষ দাশ জানান, চট্টগ্রাম-১৬ আসনে মোট ১১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও শেষ দিনে ৯ জন জমা দিয়েছিলেন। মনোনয়নপত্র দাখিল না করা দুই প্রার্থী হলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মীর মোহাম্মদ দোস্ত।
