সেনাবাহিনীর সদস্যদের মাঝে হারানো ভাইদের খুঁজে ফিরেন প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রাম : সেনাবাহিনীর গর্বিত সদস্যদের মাঝে ভাইদের খুঁজে ফিরেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে রয়েছে আমাদের সুদৃঢ় পারিবারিক বন্ধন। আমার ভাই শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলো। দ্বিতীয় ভাই শহীদ লেফট্যানেন্ট শেখ জামাল ১৯৭৫ সালে রয়েল মিলিটারি একাডেমি স্যান্ডহার্স্টস থেকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ শেষে কমিশন লাভ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়। ছোট ভাই রাসেলের ইচ্ছা ছিল বড় হয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেবে। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকেরা সবাইকে নির্মমভাবে হত্যা করে। আমি তোমাদের মধ্যে আমার হারানো ভাইদের খুঁজি।’

বুধবার সকালে চট্টগ্রামের ভাটিয়ারিতে সেনাবাহিনীর ৭৫তম বিএম দীর্ঘমেয়াদী কোর্সের অফিসার ক্যাডেটদের কমিশনপ্রাপ্তি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে এভাবেই স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন প্রধামন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির জনকের প্রতিরক্ষা নীতির অনুসরণে ফোর্সেস গোল-২০৩০ প্রণয়নের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৯ বছরে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা অনেক বেড়েছে।আজকের বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অবকাঠামোগত, কৌশলগত এবং প্রযুক্তিগত দিক থেকে এক দশক আগেকার সেনাবাহিনীর চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। আধুনিক প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জামের সমন্বয়ে আজকের সেনাবাহিনী অনেক বেশি উন্নত, দক্ষ এবং চৌকস।

তিনবছর মেয়াদী প্রশিক্ষণ শেষে ল্যাফটেনেন্ট হিসেবে কমিশনপ্রাপ্ত অফিসারদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তোমাদের মনে রাখতে হবে, তোমরা এদেশের সন্তান। জনগণের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তোমাদের সকলকেই সাধারণ মানুষের হাসিকান্না, সুখ-দুঃখের অবিচ্ছেদ্য অংশীদার হতে হবে।

তিনি বলেন, দেশ-বিদেশে দায়িত্ব পালনে দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব দেখিয়ে আমাদের সেনাবাহিনী সব মহলের প্রশংসা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এই সুনাম আরও এগিয়ে নিতে হবে। বিশ্বের যে কোন প্রান্তের মানুষ শান্তি আর সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে জানবে-এটিই আমার প্রত্যাশা।

সেনাবাহিনীর ৭৫তম বিএম দীর্ঘমেয়াদী কোর্সের অফিসার ক্যাডেটদের কমিশনপ্রাপ্তি উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রপতি প্যারেড পরিদর্শনের পাশাপাশি এতে আরো উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের অধিনায়ক লে.জনারেল আব্দুল আজিজ এবং বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো.সাইফুল আলম।