চট্টগ্রামের ৬ মাদরাসায় পাউ হাংয়ের শীতবস্ত্র বিতরণ, পেলেন ভাসমানরাও


হাড়কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত জনজীবনে কিছুটা উষ্ণতার পরশ নিয়ে মাদরাসার এতিম শিক্ষার্থী ও ভাসমান মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে তাইওয়ানভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ পাউ হাং ইন্ডাস্ট্রিয়াল লিমিটেড’। সোমবার (৫ জানুয়ারি) প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগে চট্টগ্রাম নগরের ছয়টি মাদরাসার শিক্ষার্থী এবং রাস্তার পাশে থাকা দুস্থ ও ভাসমান মানুষের মাঝে অন্তত এক হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

কর্ণফুলী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (কেপিজেড) অন্যতম প্রধান এই প্রতিষ্ঠানটি এদিন শহরের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মানবিক এই সহায়তা পৌঁছে দেয়। যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে সেগুলো হলো—চট্টগ্রাম নেছারিয়া কামিল মাদরাসা, দারুল উলুম আল ইসলামিয়া মাদরাসা, দারুল উলুম আল ইসলামিয়া মহিলা মাদরাসা, হায়দার আব্দুল বারী তালিমুল কুরআন মাদরাসা, আন নূর তালিমুল কুরআন মাদরাসা ও খানকায়ে ছালেহিয়া।

কম্বল বিতরণের সময় চট্টগ্রাম নেছারিয়া কামিল মাদরাসার দশ বছর বয়সী এতিম শিক্ষার্থী মোহাম্মদ হাসানের চোখেমুখে ছিল আনন্দের ঝিলিক। ছোটবেলায় মা-বাবাকে হারানো হাসানের কাছে তীব্র শীত নিবারণের জন্য কোনো লেপ বা কাঁথা ছিল না। একটি নতুন কম্বল পেয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে সে বলে, শীতে খুব কষ্ট হচ্ছিল, কম্বলটা পেয়ে এখন অনেক ভালো লাগছে।

বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পাউ হাং ম্যানেজমেন্টের অ্যাডমিন ডিরেক্টর লিওন কু, নেছারিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. রফিক উদ্দিন ছিদ্দিকী, পাউ হাংয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আশরাফ হোসেন নাঈম এবং নুরুন্নবী খালেদ।

এ সময় পাউ হাংয়ের অ্যাডমিন ডিরেক্টর লিওন কু বলেন, শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সমাজের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের কষ্ট লাঘবে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। আমাদের সামান্য সহায়তায় যদি কারও শীতের কষ্ট কিছুটা হলেও কমে, সেখানেই আমাদের সার্থকতা। মাদরাসা কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি স্থানীয়রা বিদেশী এই প্রতিষ্ঠানের এমন মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন।