রাউজানে গিয়াস কাদেরের অনুসারী যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা


চট্টগ্রামের রাউজানে বাড়ির সামনে জানে আলম সিকদার নামের এক যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের আজগর আলী সিকদার বাড়ির সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত জানে আলম সিকদার (৫০) ওই এলাকার মৃত হামজু মিয়ার ছেলে। তিনি রাউজান উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্ত গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে জানে আলম নিজ বাড়ির পাশের সড়কে হাঁটাহাঁটি করছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলে করে আসা একদল দুর্বৃত্ত তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। দুর্বৃত্তদের ছোড়া দুটি গুলি তাঁর বুকে বিদ্ধ হয়। ঘটনার পরপরই মহিউদ্দিন নামের স্থানীয় এক বিএনপি কর্মী ফেসবুক লাইভে এসে হামলার বিষয়টি জানান এবং আর্তনাদ করতে দেখা যায়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত চট্টগ্রাম নগরীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গোলাগুলির খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়রা গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর আমরা জানতে পারি তিনি মারা গেছেন। কে বা কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত জানে আলম দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধাকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছেন তাঁর স্বজন ও দলীয় নেতাকর্মীরা।

এদিকে এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, রাউজান যুবদলের দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতা জানে আলম সিকদার আমার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। দুর্বৃত্তরা তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। তিনি অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।