আইনের ফাঁক গলে নির্বাচনে ঋণখেলাপিরা


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঋণখেলাপির দায়ে ৮২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে উচ্চ আদালত থেকে নিজেদের খেলাপি মর্যাদার ওপর স্থগিতাদেশ নিয়ে দিব্যি নির্বাচনী লড়াইয়ে টিকে রয়েছেন আরও ৩১ জন ঋণখেলাপি। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না থাকলেও আইনি ফাঁকফোকর গলিয়ে তাঁরা সাধারণ প্রার্থীদের মতোই সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন।

জানা যায়, উচ্চ আদালতে রিট করে ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) তালিকায় নিজেদের নামের ওপর স্থগিতাদেশ নিয়ে এসব প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই আদেশ বলবৎ থাকছে। উদাহরণস্বরূপ, নারায়ণগঞ্জের একটি আসনে একজন ঋণখেলাপি প্রার্থী উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে তাঁর মনোনয়ন বৈধ করতে সক্ষম হয়েছেন। একইভাবে মৌলভীবাজারের একটি আসনেও একজন ঋণখেলাপি প্রার্থী প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাতীয় নির্বাচনে ঋণখেলাপিরা যদি এভাবে আইনি সুযোগ নিয়ে পার পেয়ে যান, তবে তা দেশের অর্থনীতির জন্য নেতিবাচক বার্তা বয়ে আনবে। এ বিষয়ে ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফিন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক মোস্তফা কে মুজেরি বলেন, এটি দেশের জন্য এক অশনিসংকেত এবং চরম দুর্ভাগ্যের বিষয়। এই দেশে ঋণখেলাপিরা বাড়তি সুবিধা নিয়ে ঘুরে বেড়ান, আর ভালো গ্রাহকরা ভোগান্তির শিকার হন।

তিনি বলেন, খেলাপিরা ব্যাংকের টাকা ফেরত না দিয়ে আদালতে গিয়ে বছরের পর বছর রিট ঝুলিয়ে রাখেন। রাজনৈতিক সরকারগুলো নানা কারণে প্রয়োজনীয় সংস্কার করেনি। আমাদের প্রত্যাশা ছিল অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়ে কঠোর হবে, কিন্তু তারাও কার্যত কিছু করেনি। অর্থঋণ আদালতের সংখ্যা এবং বিচারক ও আইনজীবীর সংখ্যা বাড়ানোর ওপর জোর দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এই প্রধান অর্থনীতিবিদ।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, আমাদের কাজ হলো কে ঋণখেলাপি আর কে নয়, তা চিহ্নিত করা। কিন্তু নির্বাচনের বৈধতা দেওয়ার একক এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের। ব্যাংক চাইলে প্রার্থীর রিটের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে এবং এরপর ইসি সিদ্ধান্ত নেবে। এর বাইরে আমাদের আর কিছু করার নেই।

উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে সংশোধিত আরপিওতে বলা হয়েছে, নির্বাচনের পরেও যদি প্রমাণিত হয় কোনো এমপি ঋণখেলাপি বা তিনি মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন, তবে নির্বাচন কমিশন তাঁর আসন বাতিল করতে পারবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা দেশে ২ হাজার ৫৭৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে এর মধ্যে ২ হাজার ৪৬১ জন প্রার্থীকে ঋণখেলাপিমুক্ত পাওয়া গেছে।