
পাকিস্তানের কাছ থেকে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান ক্রয়ের সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বিমান বাহিনী প্রধানদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রেস উইং জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ইসলামাবাদে পাকিস্তানের এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিধু এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খানের মধ্যে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে চীন ও পাকিস্তানের যৌথ উদ্যোগে তৈরি বহুমুখী যুদ্ধবিমান ‘জেএফ-১৭ থান্ডার’-এর প্রকিউরমেন্ট বা সংগ্রহের বিষয়ে দুই প্রধানের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
এরই মধ্যে মিয়ানমার, আজারবাইজান ও নাইজেরিয়ার মতো দেশ পাকিস্তান থেকে এই যুদ্ধবিমান কিনেছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইসলামাবাদ বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি অস্ত্র সরবরাহের উচ্চাকাঙ্ক্ষা আরও বিস্তৃত করছে। এই আলোচনা এমন একসময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন পাকিস্তান গত বছরের (২০২৫ সাল) মে মাসে চিরশত্রু ভারতের সঙ্গে সংঘাতে তাদের বিমান বাহিনীর সাফল্যকে পুঁজি করে আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের সমরাস্ত্রের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। ওই সংঘাতকে প্রায় তিন দশকের মধ্যে পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ লড়াই হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মঙ্গলবারের বৈঠকে যুদ্ধবিমান ছাড়াও প্রশিক্ষণ বিমান সরবরাহের বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। এক বিজ্ঞপ্তিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, বাংলাদেশকে ‘সুপার মুশশাক’ প্রশিক্ষণ বিমান দ্রুত সরবরাহ করা হবে। একই সঙ্গে একটি সম্পূর্ণ প্রশিক্ষণ প্যাকেজ এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রযুক্তিগত সহযোগিতা প্রদানের বিষয়েও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই দেশের বিমান বাহিনী প্রধানের এই বৈঠক এবং সমরাস্ত্র কেনার আলোচনা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
