
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে প্রভাবশালীদের চাপে চাঁদাবাজির অভিযোগ বাদ দিয়ে মামলা নিতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। রোববার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী এক ব্যক্তি। তাঁর দাবি, স্থানীয় ‘জলদস্যু’ ও বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে গিয়ে তিনি আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী জানান, গত ৩ জানুয়ারি তিনি স্ত্রী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের নিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এজাহার দাখিল করতে বোয়ালখালী থানায় যান। কিন্তু থানা কর্তৃপক্ষ প্রভাবশালীদের ইন্ধনে এজাহার থেকে চাঁদাবাজির অংশটি বাদ দেওয়ার ‘পরামর্শ’ দেয়। একপর্যায়ে নিরুপায় হয়ে পুলিশের কথামতো কেবল প্রাণঘাতী হামলার বিবরণ দিয়ে গত ৬ জানুয়ারি তিনি মামলা করেন। বোয়ালখালী থানায় মামলাটি (নম্বর ৩/২০২৬) রেকর্ড করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযুক্ত হিসেবে ‘টাকলা শহীদ’ ও ‘ব্যাটটা নারু’ নামের দুই ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা হয়। ভুক্তভোগীর দাবি, এরা এলাকায় পরিচিত জলদস্যু এবং এর আগেও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। গত বছরের ২৫ এপ্রিল অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর হাতে আটক হয়েছিল তারা। পরে ৭ সেপ্টেম্বর তাদের গোপন আস্তানা থেকে দুটি ভারী অস্ত্র ও ১৮ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, আজিজুল হক নামের এক ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। এই চক্রটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে। একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আইনি অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে তিনি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। একই সঙ্গে অবৈধ বালু উত্তোলন ও চট্টগ্রাম বন্দর চ্যানেল দিয়ে বালু পরিবহন বন্ধে এবং আজিজুল হকসহ সংশ্লিষ্ট চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) হস্তক্ষেপ কামনা করেন ওই ভুক্তভোগী।
