
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির নাজিরহাট পৌরসভায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মিতব্য একটি সড়কের কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ২ কোটি ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে নিম্নমানের ইট, খোয়া ও বালু ব্যবহারের ফলে মানুষের পায়ের চাপেই সড়কটি দেবে যাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, স্থানীয়দের ‘চাঁদাবাজি’র কারণে তারা গুণগত মান বজায় রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের কোভিড প্রকল্পের (২০২৪-২০২৫ অর্থবছর) আওতায় ২ হাজার ৭৬০ মিটার দীর্ঘ ‘সুয়াবিল সোবহানীয়া সড়ক’ নির্মাণের বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২ কোটি ৩২ লাখ টাকার এই কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এল জে ট্রেডার্স। ২০২৫ সালের ১ জুন কার্যাদেশ পাওয়ার পর এক বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা। বর্তমানে কাজের ৫০ শতাংশ শেষ হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের কাজে বালুর পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে কাদামাটি। তার ওপর নিম্নমানের ও পুরোনো ইটের খোয়া বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুরোনো ইট না উঠিয়েই তার ওপর নতুন কাজ করা হচ্ছে। এমনকি ইটের ভাঙা অংশ বা রাবিশও ব্যবহার করতে দেখা গেছে। পানি না ছিটানোর ফলে ধুলায় ধূসরিত হয়ে পড়েছে পুরো এলাকা। কাজের মান এতটাই নাজুক যে, সদ্য বিছানো খোয়ার ওপর পা দিলেই তা দেবে যাচ্ছে। কাজের সময় তদারকিতে পৌর কর্তৃপক্ষের কাউকে দেখা যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. নেজাম উদ্দিন বলেন, “টেন্ডারের চুক্তি অনুযায়ী কাজ করার কথা বলা হলেও ঠিকাদার কোনো তোয়াক্কা করছেন না। নিম্নমানের ইট, খোয়া ও বালু দিয়ে কাজ শেষ করার পাঁয়তারা চলছে। এতে সরকারের বিশাল অর্থের অপচয় হচ্ছে, সড়কটি কয়েক মাসও টিকবে না।”
স্কুলশিক্ষক বাদল চক্রবর্ত্তী বলেন, “কাজের গুণগত মান অত্যন্ত খারাপ। কাদামাটিতে ভরে গেছে পুরো সড়ক। জীবনেও এমন কাজ দেখিনি।”
অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মেসার্স এল জে ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. সাহাব উদ্দিন মুঠোফোনে বলেন, “স্থানীয়দের চাঁদাবাজির কারণে আমরা এক প্রকার জিম্মি হয়ে পড়েছি। কাজের উপকরণ তাদের কাছ থেকে কিনতে হবে—এমন অজুহাতে তারা বাধা সৃষ্টি করছেন।” এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন এবং পরে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাকে আর পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে নাজিরহাট পৌরসভার প্রকৌশলী বিকাশ চন্দ্র দাশ বলেন, “অনিয়মের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রমাণ পেলে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “সরেজমিনে গিয়ে অনিয়ম দেখলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ঠিকাদারের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “চাঁদাবাজির অজুহাতে কাজে অনিয়ম কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। কেউ চাঁদা দাবি করলে তিনি আইনি প্রতিকার চাইতে পারতেন।”
