ট্রাইব্যুনাল নিয়ে চট্টগ্রামের এনসিপি নেতার ‘হুমকি’, লিখিত অভিযোগ করার নির্দেশ


আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে জড়িয়ে ‘কুৎসা রটনা’ এবং ট্রাইব্যুনাল গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ এনেছেন চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর আইনজীবী ও সাবেক স্ত্রী রিজওয়ানা ইউসুফ।

সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে শুনানিকালে তিনি এ অভিযোগ তুলে ধরেন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

শুনানিতে আইনজীবী রিজওয়ানা ইউসুফ বলেন, চট্টগ্রামে রেজাউল করিম নামের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতা হুমকি দিয়েছেন—তাঁদের মনমতো রায় না হলে ট্রাইব্যুনাল গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হেনস্তার বিবরণ দিয়ে তিনি ট্রাইব্যুনালকে বলেন, “চিফ প্রসিকিউটরের সঙ্গে আমার সম্পর্কের কারণে তিনি আমাকে ফেভার (সুবিধা) করছেন—এমন কথা ছড়ানো হচ্ছে। অথচ ফজলে করিম আমার প্রাক্তন স্বামী। চিফ প্রসিকিউটরকে জড়িয়ে আমার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন কুৎসা রটানো হচ্ছে। এতে সামাজিকভাবে আমরা হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছি।”

ঘটনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে রিজওয়ানা বলেন, সম্প্রতি চট্টগ্রামে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিনের মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে সদ্য সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও চিফ প্রসিকিউটরসহ অনেক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। ওই অনুষ্ঠানে তিনিও ছিলেন।

“চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ও আমার একটি কাটিং (ক্রপ করা) ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। অপপ্রচারকারীরা বলছে, ফজলে করিমের জামিনের বিষয়ে দুজনের মধ্যে আপস হয়েছে। তাকে যদি এ মামলায় জামিন দেওয়া হয়, তাহলে ট্রাইব্যুনাল গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছেন ওই এনসিপি নেতা,” যোগ করেন তিনি। এ সময় ফেসবুকে তাঁকে নিয়ে করা কিছু অশালীন মন্তব্যও আদালতের সামনে তুলে ধরেন।

অভিযোগ শুনে ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশনের বক্তব্য জানতে চান। জবাবে প্রসিকিউটর তামিম বলেন, “আমরা বিষয়টি অবগত রয়েছি। শুধু আসামিপক্ষকেই নয়, প্রসিকিউশন ও ট্রাইব্যুনালের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েও সমালোচনা করা হচ্ছে। এতে আমরাও মাঝেমধ্যে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ি। আদালত চাইলে বিষয়টি আমলে নিতে পারেন।”

এ পর্যায়ে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার বলেন, “আমরা ব্যাখ্যা চাইব।”

বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, “বিচারব্যবস্থাকে যদি এভাবে বাধাগ্রস্ত করা হয়, তাহলে রাষ্ট্র টিকবে কীভাবে? বিচার বিভাগের স্বাধীনতা থাকল কই?”

পরে আদালত রিজওয়ানা ইউসুফকে নির্দেশ দেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাদের নাম-পরিচয়সহ একটি লিখিত আবেদন জমা দিতে। আবেদন পেলে ট্রাইব্যুনাল এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে আশ্বস্ত করা হয়।

শুনানির শুরুতে আইনজীবী রিজওয়ানা ইউসুফ সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরীর স্বাস্থ্যগত অবস্থার কথা আদালতকে জানান। নিরাপত্তাজনিত কারণে কারা হাসপাতালের বাইরে চিকিৎসার আগের আবেদনটি প্রত্যাহার করে কারা হাসপাতালের ভেতরেই চিকিৎসার নতুন আবেদন করেন তিনি।

তিনি বলেন, “মেডিকেল বোর্ডের স্বাস্থ্য প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি (ফজলে করিম) আগের চেয়ে কিছুটা উন্নতির পথে। তবে কারাগারে তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”

এদিকে এ মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আট সপ্তাহ সময় চাওয়া হয়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ১৬ মার্চ পরবর্তী দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।