একুশে পত্রিকায় সংবাদ: কাজের বিল আটকে দেওয়ার হুঁশিয়ারি, নিম্নমানের সামগ্রী সরানোর নির্দেশ


চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির নাজিরহাট পৌরসভায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মাণাধীন একটি সড়কে অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। একুশে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর সরেজমিন পরিদর্শন শেষে সেখানে ব্যবহৃত ও মজুদ করা নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। একই সঙ্গে কাজের গুণগত মান নিশ্চিত না হলে বিল দেওয়া হবে না বলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) একুশে পত্রিকার অনলাইনে ‘পায়ের চাপেই দেবে যাচ্ছে সড়ক, ঠিকাদারের অজুহাত চাঁদাবাজি’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রশাসনের নজরে আসার পর সোমবার বিকেলে সরেজমিন পরিদর্শনের জন্য পৌরসভার প্রকৌশলীকে ঘটনাস্থলে পাঠান নাজিরহাট পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নজরুল ইসলাম।

বিশ্বব্যাংকের কোভিড প্রকল্পের (২০২৪-২০২৫ অর্থবছর) আওতায় ২ কোটি ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে পৌর এলাকায় ২ হাজার ৭৬০ মিটার দীর্ঘ ‘সুয়াবিল সোবহানীয়া সড়ক’ নির্মিত হচ্ছে। বর্তমানে কাজের প্রায় ৫০ শতাংশ শেষ হয়েছে। এর আগে অভিযোগ ওঠে, সড়কে নিম্নমানের ইট, খোয়া ও বালু ব্যবহারের ফলে মানুষের পায়ের চাপেই তা দেবে যাচ্ছে। তখন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান উল্টো স্থানীয়দের বিরুদ্ধে ‘চাঁদাবাজি’র অভিযোগ তুলে অজুহাত দেখানোর চেষ্টা করেছিল।

এ বিষয়ে পৌরসভার প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “সংবাদটি দেখে আমি সরেজমিন সড়কটি পরিদর্শন করতে প্রকৌশলীকে পাঠিয়েছি এবং অনিয়মের সত্যতা পেয়েছি। সেখানে ব্যবহৃত এবং মজুদ রাখা নিম্নমানের উপকরণ দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দিয়েছি। একই সঙ্গে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি, মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার করে কাজের গুণগত মান নিশ্চিত না হলে কোনো বিল ছাড় দেওয়া হবে না।”

ঠিকাদারের ‘চাঁদাবাজি’র অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “চাঁদাবাজির দোহাই দিয়ে বা ট্যাগ লাগিয়ে কাজের মান খারাপ করার কোনো সুযোগ নেই। এভাবে সচেতন নাগরিকরা এগিয়ে এলে যে কোনো কাজের গুণগত মান বজায় থাকবে।”

এদিকে প্রশাসনের এমন ত্বরিত পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় বাসিন্দা ও সমাজসেবক ইঞ্জিনিয়ার এম এ হায়াত বলেন, “চুক্তি অনুযায়ী কাজ করার কথা থাকলেও ঠিকাদার অবহেলা করে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করছিলেন। পৌর কর্তৃপক্ষের এমন পদক্ষেপে এলাকাবাসী খুশি। এতে সরকারের বিশাল অর্থের অপচয় রোধ হবে।”